পুলিশ সদস্যদের ট্রমা থেকে বের করতে উদ্যোগ

  • পুলিশ টহলে যাচ্ছে দলবদ্ধভাবে
  • নতুন আগ্নেয়াস্ত্র দেওয়া হচ্ছে
আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০২৪, ০১:০০ পিএম

ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া পুলিশের স্থাপনাগুলো নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের হামলায় থানা, পুলিশ ক্যাম্প, বক্সসহ পাঁচ শতাধিক স্থাপনা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর কম্পিউটারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে গেছে। কোনো থানা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছে। মামলার নথি পুড়ে গেছে। এরই মধ্যে দেশের সব কটি থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা ও অন্য সদস্যরা রাস্তায় কাজ করছেন। তবে ক্ষতিগ্রস্ত থানাগুলোতে সরঞ্জামাদি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কাজে ব্যাঘাত ঘটছে। এ কারণে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন সরঞ্জামাদি পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে ভবনগুলোর মেরামত শুরু করা হয়েছে।

এদিকে, রাত ও দিনে জোটবদ্ধভাবে টহল দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকার কোনো কোনো এলাকায় রাতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। যেসব থানা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছে, ওইসব থানার সদস্যদের নতুন করে আগ্নেয়াস্ত্র দেওয়া হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত সারা দেশ থেকে লুট হওয়া ৭১৫টি বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র এবং ১৯ হাজার ৬৩০ গুলি-টিয়ার শেল উদ্ধার করা হয়েছে। সহিংসতার সময় বেশিরভাগ পুলিশ সদস্য ট্রমায় ভুগছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাদের ট্রমা থেকে বের করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।

জানতে চাইলে পুলিশের মহাপরিদর্শক ময়নুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, জনগণের পুলিশ হতে যা যা করা দরকার, সেভাবেই ঢেলে সাজানো হচ্ছে। আশা করি, সপ্তাহখানেকের মধ্যে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। একই কথা বলেছেন  ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মাইনুল হাসান। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঢাকার ৫০টি থানার কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হয়েছে। যেসব থানা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে। পুলিশ বক্সগুলোও মেরামত করা হচ্ছে। থানায় থাকা কম্পিউটারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম নষ্ট হয়ে যাওয়ায় নতুন করে তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দিনে ও রাতে টহল ডিউটি বাড়াতে বলা হয়েছে। আশা করি, কিছুদিনের মধ্যেই পুলিশে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে আসবে।

সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, পুলিশের মহাপরিদর্শক, ডিএমপি কমিশনার ও র‌্যাব মহাপরিচালক দ্রুত সময়ে নিয়োগ দেওয়ার পর পুলিশের কাজের পরিবেশ আনার চেষ্টা চালানো হয়। সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) সাখাওয়াত হোসেন গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে পুলিশের সব কটি ইউনিটির কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। নির্দেশনা পেয়ে পুলিশ সদস্যরা কর্মস্থলে যোগ দেন। থানাসহ পুলিশের স্থাপনাগুলোতে সেনাবাহিনীও কাজ করছে। গতকাল ঢাকার কয়েকটি থানায় গিয়ে পুলিশের কর্মতৎপরতা দেখা গেছে। কয়েকটি থানার পুলিশ সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ছাত্র-আন্দোলনের সময় ব্যাপক সহিংসতা হওয়ায় পুলিশ সদস্যরা ট্রমার মধ্যে আছেন। আমরা কাজে ঠিকই যোগ দিয়েছি। কিন্তু আতঙ্ক কাজ করছে।’ তারা বলেন, পালাবদল করে রাতে জোটবদ্ধভাবে রাস্তায় টহল দিচ্ছি। জনগণ আমাদের নানাভাবে সহায়তা করছেন।’

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোজাম্মেল হক বলেন, পুলিশ নিজেদের ভুল সংশোধন করে জনবান্ধব পুলিশ হিসেবে কাজ করতে সক্ষম হবে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো মেরামত করা হচ্ছে। রাস্তায় পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) সব ইউনিটে একযোগে পুলিশিং সেবা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে জনমনে। কয়েক দিন ধরে থানাগুলোতে ভুক্তভোগীরা ভিড় করছেন। জিডি, মামলাসহ সব ধরনের আইনগত সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ প্যাট্রলিং শুরু হয়েছে বলে জানান জিএমপি কমিশনার মাহবুব আলম। তিনি বলেন, গাজীপুর মহানগর পুলিশের শতভাগ পুলিশ সদস্য কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। শিগগির নগরবাসীর নিরাপত্তাহীনতার শঙ্কা কেটে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত থানা, পুলিশ বক্স ও ফাঁড়িতে সরঞ্জামাদি পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের যেসব স্থানে পুলিশের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেখানে কম্পিউটারসহ অন্য সরঞ্জাম পাঠানো হবে। এ নিয়ে আইজিপি স্যার কাজ করছেন। থানাগুলো মেরামত করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে স্থাপনা মেরামতের কাজ শেষ হবে। ইতিমধ্যে রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার এসপি ও ইউনিটপ্রধানদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত লুট হওয়া ৭১৫টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। তা ছাড়া ১৮ হাজার ৫১২ রাউন্ড গুলি, ১১১৮টি টিয়ার শেল ও ১৭০টি সাউন্ড গ্রেনেড উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার চলছে। কারও কাছে অবৈধ অস্ত্র থাকলে নিকটস্থ থানায় জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ রিয়াজুল হক দেশ রূপান্তরকে বলেন, থানার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত থানার সরঞ্জামাদি দেওয়ার চেষ্টা চলছে। দিনে-রাতে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে। আস্তে আস্তে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে বলে আশা করছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত