পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র সমালোচনা করেছেন কলকাতার আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুনের শিকার শিক্ষানবিশ চিকিৎসকের বাবা। এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ওপর কোনো বিশ্বাস নেই বলে মন্তব্য করেন।
এনডিটিভিকে ভুক্তভোগীর বাবা জানান, গভীর রাতে একটি ফোন পেয়েছিলেন, তাকে জানিয়েছিলেন যে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তিনি বলেন, ‘আমি রাত ১১টায় একটি ফোন পাই, রাত ১২টায় হাসপাতালে পৌঁছাই এবং অবশেষে ভোর সাড়ে ৩টায় আমি তার মৃতদেহ দেখতে পাই।’
‘আমি যখন তাকে দেখেছিলাম তখন আমি কী অবস্থার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলাম তা কেবল আমিই জানি। তার শরীরে কোনো কাপড় ছিল না। শুধু বিছানার চাদরে মোড়া ছিল সে। তার পা দুটো ফাঁক ছিল, এক হাত মাথার উপর’, এনডিটিভিকে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ভুক্তভোগী চিকিৎসকের বাবা বলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘কন্যাশ্রী’, ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ সব প্রকল্পই ছদ্মবেশী। যারা এই প্রকল্পের সুবিধা নিতে চান, তারা দয়া করে দেখে নিন আপনার বাড়িতে লক্ষ্মী নিরাপদ কিনা।’
তৃণমূল নেতার ওপর আস্থা হারিয়েছেন জানিয়ে নির্যাতিতার বাবা বলেন, ‘প্রথম দিকে তার (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) প্রতি আমার পূর্ণ বিশ্বাস ছিল, কিন্তু এখন না। তিনি বিচার চাইছেন, কিন্তু কিসের জন্য বলছেন? তিনি এর দায়িত্ব নিতে পারেন; তিনি কিছুই করছেন না।
‘আমরা সবকিছু হারিয়েছি, আমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। আমরা ন্যায়বিচার চাই’, বলেন নির্যাতিতার বাবা।
এদিকে এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ। এছাড়া লাশ উদ্ধারের দু’দিনের মাথায় ইস্তফা দেওয়া তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষকে বেশ কয়েকদিন ধরেই জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিবিআই।
তদন্তকারীরা তার ফোন রেকর্ড এবং ঘটনার আগে ও পরে তার আচরণ খতিয়ে দেখছেন। মূলত তিনি ভুক্তভোগীর বাবা-মাকে তাদের মেয়ের লাশ দেখার অনুমতি দেওয়ার আগে প্রায় ৩ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য করেছিলেন।
আরজি কর কাণ্ডের ঘটনাকে ‘বিচ্ছিন্ন’ বলায় তোপের মুখে সৌরভ
সিসিটিভির সামনেই ঘুষের টাকা ভাগ, বিপাকে তিন পুলিশ