রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে অনৈতিক আর্থিক লেনদেন নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে সেটিকে উসকানিমূলক সংবাদ দাবি করে তা প্রত্যাখ্যান করেছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমানবিক সংস্থা রসাটম।
আজ সোমবার রসাটমের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রসাটম তার সকল প্রকল্পে উন্মুক্ত কর্মপন্থা, দুর্নীতি প্রতিরোধ নীতি এবং ক্রয় পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্যবসা প্রক্রিয়ায় উন্মুক্ততা বাহ্যিক নিরীক্ষার মাধ্যমে নিয়মিতভাবে নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। রসাটম তার নিজস্ব সুনাম ও স্বার্থ রক্ষায় আদালতের শরণাপন্ন হতেও প্রস্তুত।
রাশিয়ার কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় দেশের প্রথম এই পারমানবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরমাণু শক্তি কমিশন বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের জেনারেল ডিজাইনার ও কন্ট্রাক্টর রাশিয়ার রোসাটম করপোরেশনের প্রকৌশল শাখা। এটি নির্মাণের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। যার মধ্যে ৯০ ভাগ অর্থায়ন হচ্ছে রাশিয়ার ঋণে। ১০ ভাগের জোগান দিচ্ছে সরকার।
গত শনিবার গ্লোবাল ডিফেন্স কর্প নামে একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৫০০ কোটি ডলারের বেশি আত্মসাৎ করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এটিকে উদ্বৃতি দিয়ে গতকাল রবিবার এবং সোমবার দেশের বিভিন্ন টেলিভিশন, অনলাইন এবং পত্রিকায় খবরটি প্রচারিত ও প্রকাশিত হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির নির্মাণে খরচ ধরা হয় ১ হাজার ২৬৫ কোটি ডলার। প্রয়োজনের তুলনায় যা অনেক বেশি। মালয়েশিয়ার একটি ব্যাংকের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে এই বাজেট থেকে ৫০০ কোটি ডলার আত্মসাতের সুযোগ করে দেয় প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থা-রসাটম। এতে মধ্যস্থতা করেন শেখ হাসিনার ছেলে সজিব ওয়াজেদ জয় ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিক।
গ্লোবাল ডিফেন্স কর্পের দাবি, এ মধ্যস্থতার বিনিময়ে পাচার করা অর্থের ৩০ শতাংশ পেয়েছেন টিউলিপ, শেখ রেহানা ও পরিবারের কয়েকজন সদস্য। ২০১৩ সালে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে শেখ হাসিনার সাক্ষাতের সময় সঙ্গী ছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক। সে সময় ঢাকা-মস্কোর বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র চুক্তির মধ্যস্থতাও করেন তিনি।
২০০৯ সালে ‘প্রচ্ছায়া লিমিটেড’ নামে একটি ভুয়া কোম্পানি চালু করেন টিউলিপ সিদ্দিক, তার মা শেখ রেহানা ও চাচা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা তারিক আহমেদ সিদ্দিক। যুক্তরাষ্ট্রেও জুমানা ইনভেস্টমেন্ট নামে একটি কোম্পানি রয়েছে তাদের।
গ্লোবাল ডিফেন্স কর্প বলছে, এ কোম্পানির মাধ্যমেই বিভিন্ন দেশের অফশোর অ্যাকাউন্টে অর্থপাচার করতেন শেখ হাসিনা। তাদের এ কোম্পানিটি ডেসটিনি গ্রুপ নামে একটি চিটিং ফান্ড কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত হয়ে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার পাচার করেছে।
রসাটম বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘আমরা গণমাধ্যমে প্রকাশিত/প্রচারিত অসত্য তথ্যগুলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটিকে কলঙ্কিত করার একটি প্রয়াস হিসেবে বিবেচনা করছি। এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি সমস্যার সমাধান এবং জনগণের কল্যাণের স্বার্থে বাস্তবায়িত হচ্ছে।’
রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিতে আধুনিক প্রযুক্তির ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর ভিত্তিক দুই ইউনিটের প্রতিটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা হবে ১২০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট থেকে আগামী ডিসেম্বরে এবং এর পরের বছর দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট করে মোট ২৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হওয়ার কথা রয়েছে।
যবিপ্রবি উপাচার্যের কুশপুত্তলিকা দাহ, প্রক্টরিয়াল বডির পদত্যাগ
ছাত্র-জনতার আন্দোলন আবেগাক্রান্ত করেছিল হাথুরুসিংহেকেও
ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ ৮ কর্মকর্তা বরখাস্ত
নতুন বোর্ড আমাকে বদলাতে চাইলে আমি মেনে নেবো: হাথুরুসিংহে