রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের ফুটবল ক্লাবগুলোয়। আসন্ন ফুটবল মৌসুমে দল গঠন নিয়ে বিপাকে পড়েছে বেশিরভাগ ক্লাব। এর মধ্যে শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র চিঠি দিয়ে আগামী মৌসুমে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। নেতৃত্ব ও পৃষ্ঠপোষক শূন্যতায় ভুগছে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাব, চট্টগ্রাম আবাহনীসহ বেশ কয়েকটি ক্লাব। এদিকে ফুরিয়ে আসছে দলবদলের দিনক্ষণ। ২২ আগস্ট শেষে বন্ধ হয়ে যাবে খেলোয়াড় নিবন্ধনের সুযোগ। প্রায় শতাধিক ফুটবলারের রাতের ঘুম উড়ে গেছে দল না পাওয়ার দুশ্চিন্তায়। এ অবস্থায় জরুরি সভায় বসে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পেশাদার লিগ ম্যানেজমেন্ট কমিটি নিয়েছে সময়োপযোগী এক সিদ্ধান্ত। তারা ৩৬ জনের জায়গায় ৪ জন বাড়িয়ে ৪০ জনের নিবন্ধনের সুযোগ করে দিয়েছে প্রতিটি ক্লাবকে। ফলে বেশ কিছু খেলোয়াড়ের ভাগ্যে জুটতে পারে খেলার সুযোগ।
গতকাল ভার্চ্যুয়াল জরুরি সভার সভাপতিত্ব করেন বাফুফের সহসভাপতি ও পেশাদার লিগ ম্যানেজমেন্ট কমিটির প্রধান ইমরুল হাসান। সভা শেষে এক ভিডিও বার্তায় ইমরুল বলেন, ‘ফিফার বর্ধিত তারিখ অনুযায়ী দলবদল ২২ আগস্ট শেষ হবে। এই সময়ের মধ্যেই ক্লাবগুলোকে খেলোয়াড় নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। খেলোয়াড় নিবন্ধনের সংখ্যা ৩৬ ছিল। সেটা বাড়িয়ে ৪০ জন করা হয়েছে। ফুটবল ক্যালেন্ডারে পাঁচটি আসর আয়োজনের বিষয় উল্লেখ ছিল। সেটা কিছুটা পরিবর্তন করে সার্বিক পরিস্থিতিতে আমরা প্রিমিয়ার লিগ, ফেডারেশন কাপের বাইরে চ্যালেঞ্জ লিগ এই তিনটি আসর দিয়ে আমরা আগামী মৌসুমটা সাজিয়েছি। মৌসুম শুরুর কথা সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝিতে হলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতির আলোকে কিছুদিন বিলম্বিত হতে পারে। আমরা শিগগিরই বসে চূড়ান্ত দিনক্ষণ ঠিক করব।’
খেলোয়াড়দের দুর্দশার কথা চিন্তা করেই কমিটি নিয়েছে খেলোয়াড় বাড়ানোর সিদ্ধান্ত। এ ব্যাপারে বাফুফের সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষার বলেন, ‘সভায় বিভিন্ন ক্লাবের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা হয়েছে। শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র ছাড়া কিন্তু অন্য কোনো ক্লাব আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তারপরও খেলোয়াড়দের খেলার সুযোগ করে দিতে আমরা চারজন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ নিবন্ধনসংখ্যা বাড়ানো হলেও বিদেশি নিবন্ধন আগের মতোই থাকছে। তাতে চারজন করে স্থানীয় ফুটবলারের ক্লাবগুলোর সঙ্গে চুক্তি করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বাফুফে মনে করে এতে করে ফুটবলারদের বড় একটি অংশের সমস্যা কিছুটা হলেও লাঘব হয়েছে। তবে প্রতিবারের মতো অনেকেই বড় অঙ্কের চুক্তি পাচ্ছে না ক্লাবগুলোর কাছ থেকে এটা নিশ্চিত। কারণ প্রতিটি দলই দল গঠনের ক্ষেত্রে ভীষণভাবে আর্থিক সংকটের মধ্যে রয়েছে। এমনকি বড় বাজেটের দলগুলোও এই সমস্যার মুখে পড়েছে।
এদিকে সোমবার পর্যন্ত শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ও চট্টগ্রাম আবাহনী খেলার ব্যাপারে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি। বৃহস্পতিবার শেষ হবে দলবদল। এই দলগুলোকে তার আগেই নিতে হবে সিদ্ধান্ত।
