কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলনের মুখে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান মো. নুরুল আমিন পদত্যাগ করেছেন। মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবর পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেছেন। এদিকে কমিশনকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ, যুগোপযোগী ও দক্ষ প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে বর্তমান কমিশন পুনর্গঠনসহ ৪ দফা দাবিতে অসহযোগ ও কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
২০২৩ সালের ২২ মার্চ কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান নুরুল আমিন। অন্তবর্তী সরকার গঠনের পর থেকেই তার পদত্যাগের দাবি তোলেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এক পর্যায়ে তা বিক্ষোভে রুপ নেয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি বরাবরে পদত্যাগ পত্র পাঠিয়ে তা ২০ আগস্ট থেকেই কার্যকর করার জন্য নুরুল আমিন আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।
এর আগে গত ১৪ আগস্ট অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বরাবরে স্বারকলিপি দেন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, যেখানে প্রতিষ্টানের নানা রকম অনিয়ম ও অসংগতি তুলে ধরা হয়েছে। ১৩ আগস্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌথসভা কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদত্যাগের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।
কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদত্যাগের দাবিতে ১৮ আগস্ট থেকে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের গাড়ি চালক ও অফিস সহকারীরাও আন্দোলনে সামিল হয়েছেন। গাড়ি চালকরা ১৯ আগস্ট থেকে গাড়ি বন্ধ রেখেছেন। ১৯ আগস্ট কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নিজ ব্যবস্থাপনায় অফিস করলেও গতকাল তাদের অফিসে দেখা যায়নি।
কমিশনের প্রধান ফটক বন্ধ করে অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এদিন বিইআরসি চেয়ারম্যান এবং ৩ সদস্য অফিসে না আসায় তাদের কক্ষ বন্ধ দেখা যায়।
কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশন আইন, ২০০৩ এর ধারা ৭ লঙ্ঘন করে বিগত সরকারের মদদপুষ্ট অযোগ্য ও স্বৈরাচার চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য সদস্যদের নিয়োগ বাতিল- পদত্যাগ এবং আইনানুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিষয়ে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিগণের সমন্বয়ে কমিশন পুনর্গঠনসহ ৪ দফা দাবীতে ১৪ আগস্ট থেকে থেকে অসহযোগ ও কর্মবিরতি পালন করছে কমিশনে সর্বস্তরের সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।
