এইচআরএসএস’র প্রতিবেদন

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে নিহত ৮১৯

আপডেট : ২০ আগস্ট ২০২৪, ০৯:২১ পিএম

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ৮১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৬৪৬ জনের মৃত্যুর ধরন পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, গুলিতে মারা গেছেন ৪৫৫ জন। তবে নিহতদের মধ্যে ৬৩০ জনের নাম জানা গেলেও ১৮৯ জনের নাম জানতে পারেনি তারা।

মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) এ তথ্য জানিয়ে বলছে, ৮১৯ জনের মধ্যে ৪৭০ জনের বয়স সম্পর্কে যে তথ্য পাওয়া গেছে তাতে ১৮ বছরের কম বয়সী ৮৩ জন, ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী ২৪০ জন এবং মধ্যবয়সী ১২৬ জন।

ভুক্তভোগীর পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী, হাসপাতাল ও জাতীয় দৈনিক পর্যালোচনা করে এসব তথ্য প্রকাশ করেছে এইচআরএসএস। তবে সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যম থেকে প্রাপ্ত বিশ্বাসযোগ্য তথ্য অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা কমপক্ষে এক হাজার হবে।

মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে এইচআরএসএস’র উপদেষ্টা নূর খান লিটন, নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলামসহ সংগঠনের অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।  

নিহতদের মধ্যে ২৯৩ জনের পেশা সম্পর্কে তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায় ছাত্র ১৪৪ জন, শ্রমজীবী ৫৭ জন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ৫১ জন এবং সাংবাদিক ৫ জন। ৮১৯ জনের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৫০০ জন, চট্টগ্রামে ৮৫ জন, খুলনায় ৭৬ জন, রাজশাহীতে ৬১ জন, ময়মনসিংহে ৩৯ জন, রংপুরে ২৫ জন, সিলেটে ২০ জন এবং বরিশালে ১৩ জন।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ৬৪৬ জনের মৃত্যুর ধরন সম্পর্কে এইচআরএসএস বলছে, এর মধ্যে গুলিতে ৪৫৫ জন, অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে ৭৯ জন মারা গেছেন। এছাড়া পিটুনিতে ৭৮ জন এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ১০ জনকে হত্যা করা হয়েছে। আন্দোলন চলাকালে সবচেয়ে বেশি গত ৫ আগস্ট মারা গেছেন ২০৫ জন।

এইচআরএসএস বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হেলকিপ্টার থেকে গুলির বেআইনি ব্যবহার, শিক্ষার্থীরা আবদ্ধ স্থানে থাকাবস্থায় কাঁদানে গ্যাসের বিপজ্জনক ব্যবহার এবং এ কে ঘরানার অ্যাসল্ট রাইফেলের মতো প্রাণঘাতী আগ্নেয়াস্ত্রের নির্বিঘ্নে ব্যবহার হয়েছে। 

এইচআরএসএস’র তথ্য অনুযায়ী, গণঅভ্যূত্থানের সময় সারাদেশে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২৫ হাজার মানুষ। আহতদের অধিকাংশই গুলি, রাবার বুলেট, টিয়ার গ্যাসে আঘাতপ্রাপ্ত। সহস্রাধিক শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ তাদের হাত, পা অথবা চোখ হারিয়েছেন। আর ছয় শতাধিক মানুষ তাদের এক চোখ বা দুই চোখের দৃষ্টি শক্তি হারিয়েছেন। আন্দোলনকেন্দ্রিক ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কমপক্ষে ২৭০ জন সাংবাদিক আহত, হুমকি, গ্রেপ্তার ও লাঞ্চনার শিকার হয়েছে। নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫ জন সাংবাদিক।

এইচআরএসএস’র প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে যখনই কোনো সরকার পরিবর্তন হয়েছে তখনই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবারও তার ব্যাতিক্রম হয়নি। প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কমপক্ষে ৫৩টি হামলার ঘটনায় ২৪ জন আহত হয়েছেন। সংখ্যালঘুদের ১০টি উপাসনালয়, ১৫৭টি বসতঘর ও ১৭৭টি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত