সাভারের আশুলিয়ায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ৫ আগস্ট মো. সুজন ইসলাম (২৫) ও সাব্বির ইসলাম (৪৪) নামে দুই ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় পৃথক হত্যা মামলা হয়েছে। গত মঙ্গলবার রাতে নিহত সুজনের বাবা মো. সহিদুল ইসলাম এবং নিহত সাব্বিরের মেয়ে লিজা আক্তার বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় মামলা দুটি দায়ের করেন।
নিহত সুজন লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়নের পশ্চিম সারডুবি এলাকার বাসিন্দা। তিনি হাতীবান্ধায় স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের হুমকির মুখে আশুলিয়ায় মামাতো ভাইয়ের বাসায় আশ্রয় নিয়ে ৫ আগস্ট বাইপাইলের আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন।
অন্যদিকে নিহত সাব্বির নেত্রকোনা জেলার আটপাড়া থানার বানিয়াজান এলাকার শুক্কুর আলীর ছেলে। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি গাজীপুরের সারদাগঞ্জ এলাকায় বসবাস করে আশুলিয়ার বুড়ির বাজার এলাকায় তেলের মিলে চাকরি করতেন।
নিহত সুজনের বাবা সহিদুলের মামলায় লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. মোতাহার হোসেন, লালমনিরহাট-৩ আসনের সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মতিয়ার রহমান, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সফুরা বেগম, হাতীবান্ধা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান লিয়াকত হোসেন, পাটগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন, হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হেনা মোস্তফা জামাল, হাতীবান্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, হাতীবান্ধার পশ্চিম বেজ গ্রামের মো. সেলিম হোসেন, বড়খাতা গ্রামের আলমগীর হোসেন, কবির হোসেন, দিলীপ কুমার, লালমনিরহাট জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রাশেদ জামান, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন খান, আমিনুল খান, সুলতান আহমেদ, মো. স্বাধীনকে আসামি করা হয়েছে।
এছাড়া মামলায় আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন ভূঁইয়া, সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন খান, আশুলিয়া থানা যুবলীগের আহ্বায়ক কবীর সরকার, শাজাহান মন্ডল, এনামুল হক মুন্সি, মঞ্জু দেওয়ান, মোয়াজ্জেম হোসেন, মোতালেব ব্যাপারী, শাহাবুদ্দিন মাদবরসহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের মোট ১২৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০০-২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়, সুজন গত জুন ও জুলাই মাসে হাতীবান্ধা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। এ কারণে ১-১৬ নম্বর আসামি আন্দোলন বন্ধে তাকে চাপ দেয় এবং মাহমুদুল হাসানের বাসায় যোগসাজশ ও পরামর্শ করে। তাদের ভয় ও চাপে সুজন গত ৩০ জুলাই হাতীবান্ধা থেকে আশুলিয়ার বাইপাইলে মামাতো ভাই গোলাম মোস্তফার ভাড়া বাসায় চলে আসেন। সেখানে অবস্থানকালে ৫ আগস্ট সকালে বাইপাইল এলাকায় চলমান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র, পিস্তল, লোহার রড, বাঁশ, হকিস্টিক, লাঠিসোঁটাসহ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মামলায় উল্লেখিত আসামিরা সেখানে পৌঁছে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। আসামিরা ঘটনাস্থলে থাকা সুজনকে মাথায় গুলি করে। গুলি কানের এক পাশ দিয়ে ঢুকে মাথার খুলির মাঝখান দিয়ে বের হয়ে যায়। এরপর আসামিরা একইভাবে আরও প্রাণহানি ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।
অন্যদিকে নিহত সাব্বিরের মেয়ে লিজার করা মামলায় সাভারের সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য ও আশুলিয়া থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, আশুলিয়ার ইয়ারপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য রাজন ভূঁইয়া, ইউপি চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন মাদবর, সুমন ভূঁইয়া, আতাউর রহমান, এনামুল হক মুন্সি, সাদেক ভূঁইয়া, রাজু দেওয়ান, মোশাররফ হোসেন, হাসান কবির, মীলন মীর, আরিফ মাদবর, সানি ভূঁইয়া, উজ্জ্বল ভূঁইয়া, হেলাল মাদবরসহ ৭৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজহারে উল্লেখ করা হয়, গত ৫ আগস্ট সাব্বির ইসলাম বাসা থেকে কাজের উদ্দেশ্যে বের হন। দুপুর ২টার দিকে তার পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, আশুলিয়ার বাইপাইল মোড়ে করিম সুপার মার্কেটের সামনে তার মরদেহ পড়ে আছে। পরে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে সাব্বিরের মাথার পেছনের দিকে গুলিবিদ্ধ ও মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তার লাশ নেত্রকোনায় গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরবর্তীতে নিহত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যরা খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, মামলায় উল্লেখিত ১ থেকে ১০ নম্বর আসামিদের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য সংগঠনের নেতা-কর্মীরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত সবার ওপর হামলা চালান। পালানোর চেষ্টা করলে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালান হামলাকারীরা। ওই সময় গুলিতে সাব্বির ইসলাম নিহত হন।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এফ এম সায়েদ বলেন, পৃথক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুটি হত্যা মামলা হয়েছে। মামলা দুটিতে ২০৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়েছে।
৩১ বছর পর বাঁধ খুলে দিল ভারত, ডুবল ফেনী-কুমিল্লা
র্যাপারদের কনসার্ট স্থগিত 