আশিকের মুগ্ধতা ছড়ানো গ্রাফিতি

আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৪, ১২:১০ এএম

ছোটবেলা থেকেই তার আঁকাআঁকির প্রতি প্রবল আগ্রহ। ক্যালেন্ডারে আরবি ক্যালিগ্রাফি দেখে ভাবতেন, তা কতই না সুন্দর। এমন যদি লিখতে পারতাম। কওমি মাদ্রাসায় কিতাব বিভাগে ভর্তি হওয়ার পর তার এই সুপ্ত ইচ্ছা ডালপালা ছড়ায়। বর্তমানে ঢাকার কদমতলীর মারকাযুল হিদায়াতে পড়ার পাশাপাশি ক্যালিগ্রাফি ও গ্রাফিতি করে সবার নজর কেড়েছেন। সফল এই ক্যালিগ্রাফি শিল্পীর নাম আশিকুর রহমান। বাড়ি চাঁদপুরের উত্তর মতলব এলাকায়। ক্যালিগ্রাফি, গ্রাফিতি করে তার মাসে আয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। এক মাসে সর্বোচ্চ আয় করেছেন ২২ হাজার টাকা।

পুরুদুস্তর শিল্পমনা মানুষ আশিক। ছোটবেলায় ক্যালিগ্রাফি দেখে যে স্বপ্নের জাল তিনি বুনেছেন, তা আরও পোক্ত হয় উসাইন মুহাম্মদের সাহায্যে। আশিককে ক্যালিগ্রাফির নানা কৌশল শিক্ষা দেন উসাইন। তবে উসাইনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন ইউসুফ জামিল।

ক্যালিগ্রাফি দ্বারা ইসলামের প্রচার, প্রসার হতে পারে। পবিত্র কোরআনের আয়াতের নান্দনিকতা ফুটে উঠতে পারে। আর আঁকার প্রতি ঝোঁক তো আগে থেকেই ছিল। এসব কারণে আশিক শখের কাজ হিসেবে ক্যালিগ্রাফি বেছে নেন। ক্রেতা যেভাবে চান সেভাবে ক্যালিগ্রাফি করে দেন আশিক। কিছুটা আত্মকেন্দ্রিক ও প্রচার বিমুখ তিনি। সে জন্য ফেসবুকে তার পেজ নেই। খুব বেশি পোস্টও দেন না তিনি। আইডিতে যোগাযোগ করেন ক্রেতারা। আশিক নিজে ক্যালিগ্রাফি করেন শুধু তাই নয়। তিনি ঢাকার মোহাম্মদপুরে রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে দীর্ঘ কয়েক মাসব্যাপী কয়েকটি ক্যালিগ্রাফি কোর্স পরিচালনা করেছেন। তিনি জানান, তার কাছে ক্যালিগ্রাফি শিখে অনেকেই ভালো করছে। তাদের আয় মন্দ নয়।

অনেকগুলো প্রতিযোগিতায় আশিক অংশ নিয়েছেন। কোথাও প্রথম, কোথাও সেরা তিনে অবস্থান ছিল তার। তবে পড়াশোনার চাপে সেভাবে এক্সিবিশনে তার অংশ নেওয়া হয়ে ওঠে না। সিনিয়ার ক্যালিগ্রাফাররা যখন আশিকের কাজের প্রশংসা করে তখন তার খুব ভালো লাগে। আবার কাজ শেষ হওয়ার আগেই অনেকেই মতামত দিয়ে দেয়। এই বিষয়টি তার মোটেই ভালো লাগে না। পড়াশোনা ও শিল্পকর্ম দুটি এক সঙ্গে করতে একটু সমস্য হয় বটে। তবে তা ঠিকই সামলে নেন তিনি। পড়াশোনাকেই সবার আগে প্রধান্য দেন বলে জানান তিনি।

গ্রাফিতিতে আশিকের জুড়ি মেলা ভার। অসংখ্য গ্রাফিতি করেছেন তিনি। ছাত্র-জনতার বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন আশিককে স্পর্শ করে। তিনি রং তুলির আঁচড়ে যাত্রাবাড়ী, রায়েরবাগ, চাঁদপুর, দাউদকান্দিসহ বিভিন্ন এলাকায় অপূর্ব সব গ্রাফিতি করে সবার নজর কাড়েন। শুধু চাঁদপুরেই ১৫টির বেশি দেয়ালে তার গ্রাফিতি শোভা পাচ্ছে। কুমিল্লার দাউদকান্দির বোয়ালমারি এলাকায় একাই এক দিনে একশ ফিট গ্রাফিতি করে রেকর্ড করেছেন তিনি। আশিক জানান, ওই দিন সকাল ৮টা থেকে শুরু রাত ১০টা পর্যন্ত কাজ করেন। আশিক পড়াশোনা শেষ করে ব্যবসা করবেন। আরও অসংখ্য মানুষকে ক্যালিগ্রাফি শিখাবেন। যারা ক্যালিগ্রাফির মাধ্যমে পবিত্র কোরআনের বাণী দেশ থেকে দেশান্তরে ছড়িয়ে দেবে। এমনটাই ইচ্ছা তার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত