আঁশ ছাড়িয়ে মজুরি হিসেবে পাটখড়ি নেন নারীশ্রমিকরা

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৪, ০৬:৪১ এএম

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে কর্মক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের পাশাপাশি স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টা করছেন। এ উপজেলার নারীরা অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। জীবিকা নির্বাহের জন্য কৃষি, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং খামারের বাইরে নানা রকম কর্মকা-ে জড়িত আছেন তারা।

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, গ্রামের রাস্তার পাশে বসে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন নারীশ্রমিকরা। চালা ইউনিয়নের আগ্রাইল এলাকায় রাহেলা বেগমের সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, আঁশ ছাড়ানোর বিনিমিয়ে তিনি পাটখড়ি নেন।          

রাহেলা বেগম ছাড়াও অনেক নারীই নিজেদের জমির পাটের আঁশ ছাড়ানোর পাশাপাশি অন্যের পাটের আঁশ ছাড়িয়ে পাটখড়ি নিচ্ছেন। কয়েক দিনের বৃষ্টি এবং নদী-খালে পানি বাড়ায় সময়মতো পাট কেটে জাগ দিতে পারছেন উপজেলার কৃষকরা। পুরুষ শ্রমিকের মজুরি বেশি হওয়ায় অনেক কৃষকই নারীদের দিয়ে পাটের আঁশ ছাড়িয়ে নিচ্ছেন। এ ক্ষেত্রে অনেক নারী পারিশ্রমিক হিসেবে টাকা না নিয়ে পাটখড়ি নেন। আর কিছু কিছু নারী নগদ টাকাও নিচ্ছেন।

উপজেলার গালা ইউনিয়নের সাখিনি গ্রামের জোসনা বেগম বলেন, ‘বর্ষার পানি আসায় কোনো কাজ নেই, রোজগার নেই। প্রতিদিন পাট ছিলে দিয়ে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা মূল্যের সমান পাটখড়ি পাওয়া যায়। তাই এখন এই কাজ করছি।’

একই ইউনিয়নের বিজয়নগর গ্রামের পাটচাষি নান্নু বলেন, ‘পুরুষশ্রমিক নিলে এক হাজার টাকা রোজ দিতে হয়। তাই পাটখড়ির বিনিময়ে নারীশ্রমিক দিয়ে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করাচ্ছি। পাটের আঁশ ছাড়ানোর বিনিময়ে মজুরি হিসেবে তারা পাটখড়ি পান। সে খড়ি বিক্রি করেন তারা।’

এ ব্যাপারে হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার রহমান বলেন, আদিকাল থেকেই কৃষিতে নারীদের ভূমিকা ছিল। তারা ঘরের কাজের পাশাপাশি কৃষিকাজেও সহযোগিতা করে আসছেন। এতে খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষি উৎপাদন বিশেষ করে রবিশস্য উৎপাদন, গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি পালন, সবজি ও মৎস্য চাষসহ বিভিন্ন পেশায় নারীরা পুরুষদের পাশাপাশি সমান অবদান রাখছেন। তিনি আরও বলেন, এ উপজেলায় ইজিপিপি প্রকল্পের আওতায় ৩৬৩ জন নারীশ্রমিক কাজ করছেন। পাশাপাশি আরএমপি প্রকল্পের আওতায়  প্রায় ১৩০ জন নারীশ্রমিক কাজ করছেন। এছাড়া সরকারের সব উন্নয়নমূলক কাজে নারীশ্রমিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত