অধস্তন আদালত

বিচারকদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধি সুপ্রিম কোর্টের ওপর দিতে রিট

আপডেট : ২৫ আগস্ট ২০২৪, ০৮:১৭ পিএম

অধস্তন আদালতের ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করা হয়েছে। রবিবার (২৫ আগস্ট) ১০ আইনজীবীর পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির এ রিট আবেদনটি করেন।

এতে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা সংক্রান্ত সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের বিধান এবং ২০১৭ সালে প্রণীত বাংলাদেশ জুডিসিয়াল সার্ভিস (ডিসিপ্লিনারি) রুলসের সাংবিধানিক বৈধতা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

এছাড়া আবেদনে একটি পৃথক বিচার বিভাগীয় সচিবালয় প্রতিষ্ঠা এবং এ রিট মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তির আগে সুপ্রিম কোর্টের ২০১২ সালের আদেশ প্রতিপালনে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা চেয়ে অন্তবর্তীকালীন আদেশ চাওয়া হয়েছে। আবেদনে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সাংবিধানিক বৈধতা প্রশ্নে রুলের আরজি জানিয়েছেন রিটকারীদের আইনজীবী। রিট আবেদনে আইন মন্ত্রলায়ের লেজিসলেটিভ ও পার্লামেন্টারি এফেয়ার্স বিভাগ সচিব, আইন ও বিচার বিভাগের সচিব এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিষ্ট্রারকে বিবাদী করা হয়।

আবেদনকারীরা আইনজীবীরা হলেন মোহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন, মো. আসাদ উদ্দিন, মো. মুজাহিদুল ইসলাম, মো. জহিরুর ইসলাম, মোস্তাফিজুর রহমান, শাইখ মাহাদী, আবদুল্লাহ সাদিক, মো. মিজানুল হক, আমিনুল ইসলাম শাকিল এবং যায়েদ বিন আমজাদ।

রিট আবেদনের যুক্তিতে অ্যাডভোকেট শিশির মনির বলেন, ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রয়েছে। একই অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রপতি এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। মূলত রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংবিধানের মৌলিক কাঠামো। ১১৬ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে এ মৌলিক কাঠামো বিনষ্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধির বাস্তবায়ন কার্যত আইন মন্ত্রণালয়ের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। শিশির মনির বলেন, পৃথক সচিবালয় না থাকায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। অধস্তন আদালতের ওপর আইন মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণের কারণে বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে বিচারকার্য পরিচালনা করতে পারছেন না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত