বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন

স্বপ্ন ছিল বিদেশ যাওয়ার, এক গুলিতেই সব শেষ 

আপডেট : ২৭ আগস্ট ২০২৪, ০৪:৫৫ পিএম

পরিবারের অভাব ঘুচাতে বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন মাগুরার রাজু আহমেদ। এ কারণেই গিয়েছিলেন ঢাকায়। মৃত্যুর একদিন আগে মাকে ফোন করে বলেছিলেন, সৌদি আরব যাওয়ার চূড়ান্ত ইচ্ছের কথা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে এমন কথা জানাচ্ছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকার মোহাম্মদপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত রাজু আহমেদের মা নাসিমা খাতুন। 

মাগুরা সদর উপজেলার আজমপুর গ্রামের কালাম মোল্যার ছেলে রাজু আহমেদ জগদল সম্মিলনী কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে মাগুরা আদর্শ কলেজে ডিগ্রিতে ভর্তি হন। কিন্তু পারিবারিক অস্বচ্ছলতার কারণে লেখাপড়ায় নিয়মিত হতে পারেন নি। 

তিন বছর আগে মা নাছিমা খাতুন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হন। অভাবের সংসারে মায়ের চিকিৎসার ব্যয় নির্বাহ করতে গিয়ে ডিগ্রি পড়াটা তার আর হয়ে ওঠেনি। 

দিনমজুর বাবার একার আয়ে ধারদেনা করে রাজুর বড় ভাইকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে তিন মাস আগে দেশে ফিরে  আসেন তিনি। ফলে নিরূপায় হয়েই তিন মাস আগে ঢাকায় জননী কুরিয়ার সার্ভিসে কাজ নিয়ে বাড়ি ছাড়েন রাজু। 

এর মাঝে কোটা সংস্কার আন্দোলন শুরু হলে প্রতিদিনই রাজু কাজের ফাঁকে আন্দোলনে অংশ নিতেন বলে জানিয়েছেন তার ঘনিষ্ঠজনরা। গত ১৯ জুলাই রাজু কালো পাঞ্জাবি গায়ে দিয়ে মোহম্মদপুর এলাকায় ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন। সেখানেই রাজু গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এক গুলিতে সড়কে লুটিয়ে পড়েন তিনি।  

রাজুর গ্রামের বাড়ি জেলা সদরের আজমপুর গিয়ে দেখা যায়, তার মা নাসিমা খাতুন নিহত সন্তানের কাপড়সহ ব্যবহার্য জিনিসপত্র নিয়ে বিলাপ করছেন। তিনি বলেন, ‘আগের রাতেও রাজুর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। মোবাইলে সবার খবর নিয়েছে। বিদেশে যাওয়ার জন্য চেষ্টা করছিল সে। আমার ছেলের সে ইচ্ছা আর পূরণ হলো না। এক ছেলে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলো, আরেক ছেলে অসুস্থতা নিয়ে বিদেশ থেকে বাড়িতে এসেছে। আমি নিজেও খুব অসুস্থ। এখন আমারা কিভাবে চলবো?’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত