ভেসে গেছে পুকুরের মাছ, দিশেহারা মৎস্যচাষিরা

আপডেট : ২৮ আগস্ট ২০২৪, ০১:৩৩ পিএম

আমার ৭টি পুকুরের সব মাছ পানিতে ভেসে গেছে। একটি মাছও রাখতে পারি নি। আমি শেষ হয়ে গেছি। ঋণ করে মাছ চাষ করেছিলাম। এখন কি করে ঋণ পরিশোধ করব? এভাবে নিজের কষ্টের কথা গুলো বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের সাহেব নগরের মৎস্য খামারী সোহাগ মিয়া।

শুধু সোহাগ মিয়া নয় এমন আরও অনেক মৎস্য খামারির পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। পুকুর তলিয়ে যাওয়ায় অনেক টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন তারা। আয় রোজগার বন্ধ হয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে তাদের। এ ক্ষতি কিভাবে কাটিয়ে উঠবেন এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রাত কাটছে না তাদের।

জানা যায়, গত ২০ আগষ্ট (মঙ্গলবার) মঙ্গলবার রাতে অতি বৃষ্টি এবং ভারতের ত্রিপুরা থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে আখাউড়া উপজেলায় বন্যা দেখা দেয়। প্রায় ৪০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্ধি হয়ে যায়। ভেসে যায় পুকুর, জলাশয়ের মাছ। বন্যার পানি ক্ষতি করেছে বহু মানুষের। নষ্ট হয়েছে বহু সম্পদ। বন্যার পানিতে উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভার ৪ শতাধিক পুকুর তলিয়ে যায়। ভেসে যায় পুকুরের মাছ। আকষ্মিক বন্যায় ১২ কোটি টাকার মৎস্য সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ধারনা করছে মৎস্য অফিস।

সাহেবনগর গ্রামের সোহাগ মিয়া বলেন, ‘আমার ৭টি পুকুরের মাছ পানিতে ভেসে গেছে। দশ পনেরদিনের মধ্যে মাছগুলো বিক্রি করার কথা ছিল। কিন্তু গত ২০ আগস্ট ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে আমার সব কিছু শেষ হয়ে যায়। আমার প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার মাছ ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। সব কিছু হারিয়ে এখন আমি দিশেহারা। আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে মাছ চাষ করেছি। এখন কিভাবে ঋণ পরিশোধ করবো বুঝতে পারছি না। সরকারের কাছে সহযোগিতা কামনা করছি।’

আব্দুল্লাহ পুর গ্রামের মোবারক চৌধুরী বলেন, ‘আমার ২২০ শতকের ৩টি পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। আমার প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমি ঋণ করে টাকা এনেছিলাম। এখন ঋণ পরিশোধ করব কীভাবে।’

উপজেলা মৎস্য অফিস সুত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ৪ শতাধিক পুকুরে মাছেরে চাষ হয়। এসব পুকুর বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। ভেসে গেছে পুকুরের সব মাছ।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রওনক জাহান বলেন, ‘বন্যায় আখাউড়ায় ১২ কোটি টাকার মৎস্য সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে তথ্য নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ মৎস্য খামারীদের তালিকা করে মৎস্য অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্থ খামারীদেরকে বিনামূল্যে মাছের পোনা ও মাছের খাদ্য প্রদান এবং সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার জন্য প্রস্তাব পাঠিয়েছি। যদি মঞ্জুর হয় তাহলে ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের দেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত