পুনর্বাসিত হচ্ছেন শেখ হাসিনা সরকার ঘনিষ্ট অনেকে

আপডেট : ২৯ আগস্ট ২০২৪, ১২:৪২ পিএম

সম্প্রতি ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে দীর্ঘ ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটেছে। এরপর দেশের দায়িত্ব নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরপরই প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যপক রদবদল করা হচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে বঞ্চিত ছিলেন এমন কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগ উঠেছে, এই তালিকায় এমন অনেকে আছেন যারা আওয়ামী লীগ প্রশাসন ঘনিষ্ট ও সুবিধাভোগী ছিলেন। 

২০০৭-০৮ সালে সেনা সমর্থিত ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মন্ত্রিপরিষদ সচিবের দায়িত্বে ছিলেন আলী ইমাম মজুমদার। ২০০৮ সালে অবসরে যাওয়া এই আমলা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের জনপ্রশাসন ঢেলে সাজানোর কাজে প্রধান উপদেষ্টাকে সহযোগিতা করছেন তিনি। এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন এমন একজন কর্মকর্তাকে ব্যবহার করছেন। শেখ হাসিনার মুখ্য সচিব আহমদ কায়কাউস ও তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা মনে করছেন, আলী ইমাম মজুমদার ও তার সাবেক ব্যক্তিগত সহকারীর পথনকশায় গুরুত্বপূর্ণ সচিব, জেলা প্রশাসক, এসপি পর্যায়ে যে রদবদল হচ্ছে, তা নিয়ে এরই মধ্যে কিছু বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এমন কাজ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।

অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, ‘‌আলী ইমাম মজুমদার ওয়ান-ইলেভেনের সুবিধাভোগী। তিনি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক আহসান কিবরিয়া সিদ্দিকি কোনো কর্মকর্তাকেই সরাতে চান না। তাদের পরিকল্পনায় ১৯৮২ ব্যাচের ছয়জন কর্মকর্তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয়া হয়। ১৯৮৩, ১৯৮৪, ১৯৮৫, ১৯৮৬ ব্যাচের কাউকে নিয়োগ দেননি। ৮২ ব্যাচের কর্মকর্তারাই গত সরকারের সময় দেশের প্রশাসন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ১১৭ জন ‘‌বঞ্চিত’ সিনিয়র সহকারী সচিব পদ্মোন্নতি পেয়ে উপসচিব হয়েছেন। একইভাবে যুগ্ম সচিব হিসেবে ২০১ জন ও অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন ১৩১ জন কর্মকর্তা। সব কর্মকর্তার মধ্যে অনেকেই আছেন যারা আওয়ামী লীগ প্রশাসনে নানা সুবিধা নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি উপসচিব, যুগ্ম সচিব ও অতিরিক্ত সচিব হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া ‘‌বঞ্চিত’ কর্মকর্তাদের অনেকেই দুর্নীতিবাজ ও আওয়ামী লীগ প্রশাসনের সুবিধাভোগী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সম্প্রতি বঞ্চিত অনেক কর্মকর্তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। তবে এর মাধ্যমে আরেক ধরনের বৈষম্য তৈরি করা হচ্ছে। প্রথম বৈষম্য প্রশাসন ক্যাডারের সঙ্গে অন্য ক্যাডারের। দ্বিতীয় বৈষম্য হলো বঞ্চিতরা বঞ্চিতই থেকে যাচ্ছেন। আওয়ামী প্রশাসনের সুবিধাভোগীরাই পদোন্নতি পাচ্ছেন। এসব ঘটনা সরকারের প্রশাসন যন্ত্রে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলো মিটিয়ে ফেলতে না পারলে প্রশাসনে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা বাড়বে বলে মনে করছেন তাঁরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত