কাল মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে শুরু হচ্ছে মৎস্য আহরণ

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৪, ০৬:১৩ পিএম

কার্প জাতীয় মাছের বংশবিস্তারের লক্ষ্যে প্রতিবছর তিন মাস রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদে মাছ আহরণ বন্ধ রাখা হয়। তবে এবার বর্ষার শুরু থেকে কম বৃষ্টিপাতের কারণে হ্রদে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ পানি না থাকায় মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হওয়ায় আরো দুই দফা মৎস্য আহরণের মেয়াদ বাড়ানো হয়। অবশেষে ১২৭ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ করে কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য আহরণের জন্য সব প্রস্তুতি শেষ করেছে জেলেরা। আগামীকাল শনিবার মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে জাল ফেলে মাছ আহরণ শুরু হবে। 

এতে শুধু জেলে পাড়ায় নয়, কর্মচঞ্চল হয়ে উঠেছে জেলার সব থেকে বড় মৎস্য অবতরণকেন্দ্র বিএফডিসি ঘাট। মাছ পরিবহনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে ড্রাম ও বরফ ভাঙার মেশিন। আর দীর্ঘ ১২৭ দিনের কর্মহীন জীবনের অবসান ঘটাতে প্রহর গুণছেন জেলেরা। একইসঙ্গে সব প্রস্তুতি সেরে রেখেছেন ব্যবসায়ী ও বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএফডিসি)। 

বিএফডিসি সূত্র বলছে, কার্প জাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন, অবমুক্ত করা পোনা মাছের সুষ্ঠু বৃদ্ধির জন্য গত ২৫ এপ্রিল থেকে ২৪ জুলাই পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদে তিন মাস মাছ শিকার বন্ধ রাখা হয়। এই সময়ে হ্রদে প্রায় ৬৫ টন কার্প জাতীয় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। তবে এবার নির্দিষ্ট সময়ে হ্রদে পর্যাপ্ত পানি বৃদ্ধি না হওয়ায় দুই দফায় নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ বাড়ানো হয়। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার মধ্যরাত থেকে তুলে নেওয়া হচ্ছে মাছ শিকারের বিধিনিষেধ। কাপ্তাই হ্রদে মৎস্য শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে প্রায় ২৬ হাজার জেলে। 

রাঙ্গামাটির শহরের পুরান পাড়া জেলা পল্লীর বাসিন্দা রামু দাশ বলেন, ‘সরকারি যে সহায়তা পাওয়া যায়, তাতে পরিবার নিয়ে চলা কঠিন। কারণ বন্ধকালীন পরিবার-পরিজন নিয়ে কষ্টে দিন কটে। দীর্ঘ চার মাস পর মাছ ধরতে নামতে পারবো। এতেই খুশি আমরা।’

রাঙ্গামাটি বড় মৎস্য অবতরণকেন্দ্র বিএফডিসি ঘাটের ব্যবসায়ী উদয়ন বড়ুয়া বলেন, দীর্ঘদিন পর মাছ আহরণ শুরু হয়েছে। সেই লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি সেরে নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। 

বিএফডিসির রাঙ্গামাটি অঞ্চলের ব্যবস্থাপক কমান্ডার আশরাফুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘শনিবার মধ্যরাত থেকে মাছ শিকার শুরু হলেও রোববার (১ সেপ্টেম্বর) সকাল ছয়টা থেকে ঘাটে মৎস্য অবতরণ শুরু হবে। সেই লক্ষ্যে যে ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া দরকার, সব নেওয়া হয়েছে।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত