পাবনায় বাস মালিক সমিতি দখল বিএনপি নেতার

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০২:০১ এএম

পাবনায় বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জেলা বাস মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির কার্যালয় ভাঙচুর, দখল ও অবৈধভাবে নিজেকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রতিকার চেয়ে সদর থানায় ও জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন সমিতির সাধারণ সদস্যরা।

গতকাল শনিবার দুপুরে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে সমিতির ৫৫ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাস মালিক কাউছার রহমান রিন্টু।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সদস্যরা অভিযোগ করেন, ২০০৮ সালে জেলা বাস-মিনিবাস ও কোচ মালিক সমিতির সর্বশেষ নির্বাচনে মো. ওমর আলী সভাপতি ও কালাম আহম্মেদ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিন বছর কমিটির মেয়াদপূর্তির পরেও তারা তৎকালীন সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীর প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচন দেননি। সাধারণ সদস্যদের সমিতির হিসাব-নিকাশ না দিয়ে ও রেজিস্টার সংরক্ষণ না করে নিজেদের মতো তহবিল লুট করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তারা আত্মগোপনে চলে যান। গত ৭ আগস্ট সমিতির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের সম্মতিতে গঠনতন্ত্রের ১৪ (ঘ) ধারা অনুযায়ী কাউছার রহমান রিন্টুকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাইদুর রহমান মানিককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

পাবনা সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেহানুল ইসলাম বুলাল গত ২৬ আগস্ট কতিপয় সন্ত্রাসী নিয়ে এসে শহরের এআর কর্নারে সমিতির কার্যালয়ের তালা ভেঙে মালিক সদস্যদের স্বাক্ষর করা  রেজিস্টার বই ও রেজুলেশন বই চুরি করে নিয়ে যান। এরপর তিনি সেলিম হোসেনকে সভাপতি ও নিজেকে সাধারণ সম্পাদক ঘোষণা করে সমিতির কার্যালয় দখল করে নেন।

সমিতির সদস্যরা আরও বলেন, ‘রেহানুল ইসলাম বুলাল নিজে বা তার পরিবারের কেউ পরিবহন ব্যবসায় যুক্ত নন, তার নামে মালিক সমিতিতে  কোনো গাড়িও কখনো তালিকাভুক্ত ছিল না। এর পরেও চর দখলের মতো করে আমাদের অফিস ও কমিটি তিনি বিএনপির নাম ভাঙিয়ে দখল করেছেন। আমরা প্রশাসনকে এ বিষয়ে লিখিতভাবে জানিয়েছি। এ বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

সমিতির সদস্যরা বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে সমিতির নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণে আমরা সবার সহযোগিতা কামনা করি।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেহানুল ইসলাম বুলাল। তিনি বলেন, ‘সমিতির সর্বশেষ কমিটির মেয়াদ ২০২২ সালে শেষ হয়েছে। আমি সমিতির ২০ নম্বর সদস্য। সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আমাদের কমিটি গঠিত হয়েছে যা সরকারি অনুমোদনও পেয়েছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে কোনো নির্বাচনের সুযোগ নেই।’ তালা ভেঙে অফিস দখলের বানোয়াট অভিযোগ না করে সব সদস্যকে সমিতির অফিসে এসে কথা বলারও আহ্বান জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত