বুড়িচংয়ে কমছে বন্যার পানি, দৃশ্যমান হচ্ছে ক্ষত

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৪:০৭ পিএম

ভারতের ঢলের পানিতে গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙ্গে গত ১০ দিন ধরে ডুবে থাকে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলা। এরই মধ্যে কমতে শুরু করেছে পানি। তার সঙ্গে দেখা দিয়েছে ক্ষত। তার মধ্যে বুড়িচং সদর থেকে রাজাপুর হয়ে শংকুচাইল পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার পাঁকা সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমানে সড়কটি দিয়ে যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। গর্তগুলো মাটি দিয়ে ভরাট করার উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুড়িচং সদর থেকে রাজাপুর হয়ে শংকুচাইল পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার পাঁকা সড়ক। এটি উপজেলার একটি ব্যস্ততম সড়ক। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করে এ সড়ক দিয়ে।

গত বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) রাতে বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়ায় গোমতী নদীর বাঁধটি ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকতে থাকে। মুহূর্তের মধ্যে ডুবে যায় পুরো উপজেলা। সেই পানিতে ডুবে যায় পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণপাড়া, দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলা। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়ে সাড়ে চার লাখ মানুষ। যা স্মরণকালের বন্যা। ডুবে যায় বাড়ি ঘর। ভেসে যায় মৎস খামারের মাছ। তলিয়ে যায় ফসলি জমি। ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়ে কয়েক লাখ বানভাসি। এরই মধ্যে পানি কমতে থাকায় একের পর এক দেখা দিচ্ছে ক্ষত। তার মধ্যে বুড়িচং সদর থেকে রাজাপুর হয়ে শংকুচাইল পর্যন্ত সড়কটি। বন্যার পানি কমে যাওয়ায় সড়কটির পিজ উঠে দেখা দিয়েছে বড় বড় গর্ত। মনে হয় যেন ৫০ বছর ধরে এ সড়কের কোনো কাজ হয়নি। ইতোমধ্যে সড়কটি গর্ত ভরাট করে যানবাহন চলাচলের উপযোগ করার চেষ্টা করছেন এলাকাবাসী। 

এ বিষয়ে হরিপুর গ্রামের সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘সিএনজি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি। ২১ আগস্ট রাতে বাঁধ ভেঙ্গে এলাকায় পানি ঢুকে। তড়িঘড়ি করে পরিবারের ৫ সদস্যকে নিয়ে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে চলে যায়। গত দশ দিন ধরে গাড়ি চালাতে পারছি না। পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবারও জোগাড় করতে পারছি না। গর্তগুলা ভরাট না করলে কোনোভাবে গাড়ি চালানো সম্ভব নয়। দ্রুত সড়কের মেরামতের দাবি জানাই।’

হরিপুর গ্রামের শাহিন বলেন, ‘এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে। বন্যার পানিতে পুরো উপজেলা ডুবে যায়। এখন পানি কমায় সড়কের বড় বড় গর্ত দেখা যাচ্ছে। আমরা এলাকাবাসী উদ্যোগ নিয়ে সড়কটি মেরামত করার জন্য কাজ করতেছি।’

বুড়িচং উপজেলা প্রকৌশলী আলিফ মাহমুদ অক্ষর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পুরো উপজেলায় এখনো পানি। কিছু কিছু জায়গায় পানি কমতে শুরু করেছে। আমরা যত দ্রুত সম্ভব গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো আগে মেরামত করার চেষ্টা করব। বুড়িচং সদর থেকে রাজাপুর হয়ে শংকুচাইল পর্যন্ত সড়কটি ২০১৯ সালে পাঁকা করা হয়।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত