জামায়াতের ইসলামীর নিবন্ধন-সংক্রান্ত আপিল মামলাটি পুনরুজ্জীবিতের আবেদন করা হয়েছে। গতকাল রবিবার আবেদনটি সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে উপস্থাপন করা হয়। চেম্বার আদালতের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আগামী ২১ অক্টোবর আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করছেন।
আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। মামলাটি পুনরুজ্জীবনের আবেদনের যুক্তিতে তিনি গত সপ্তাহে বলেছিলেন, আপিল বিভাগে জামায়াতের যে মামলাটি (নিবন্ধন-সংক্রান্ত) ছিল সেটি পূর্ণাঙ্গ শুনানি হয়ে নিষ্পত্তি হয়নি। ডিসমিসড ফর ডিফল্ট (শুনানিতে জামায়াতের আইনজীবীর অনুপস্থিতি) হয়েছিল। সেজন্য মামলাটি পুনরুজ্জীবনের জন্য আবেদন করা হবে।
২০০৮ সালের ৪ নভেম্বর রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতকে নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ২০০৯ সালের জানুয়ারিতে জামায়াতের নিবন্ধনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, জাকের পার্টি এবং মুক্তিযোদ্ধার সন্তানসহ ২৫ দল ও সংগঠন। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ওই বছরের ২৭ জানুয়ারি এক রুলে জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়া নিবন্ধনের বৈধতা প্রশ্নে রুল দেয় হাইকোর্ট। ২০১৩ সালের ১ আগস্ট সংখ্যাগরিষ্ঠ মতামতের ভিত্তিতে জামায়াতের নিবন্ধন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের একটি বৃহত্তর বেঞ্চ। এ রায় স্থগিত চেয়ে জামায়াতের আইনজীবীরা সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালতে আবেদন করলে ৫ আগস্ট সেটি খারিজ হয়ে যায়। ওই বছরের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতির আবেদন) করে জামায়াত। গত বছরের ১৯ নভেম্বর আপিল বিভাগ জামায়াতের করা আপিল খারিজ করে রায় দিলে হাইকোর্টের রায়টি বহাল থাকে। আপিলের শুনানিতে জামায়াতের পক্ষের আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় আদেশে আদালত উল্লেখ করে ‘ডিসমিসড
ফর ডিফল্ট’। এর ধারাবাহিকতায় জামায়াত মামলাটি পুনরুজ্জীবিতের এ উদ্যোগ নেয়।
