ফিলিস্তিনে আগ্রাসনের কারণে ইসরায়েলের সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য কমানোর ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। সোমবার ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র রপ্তানির ৩০টি লাইসেন্স স্থগিত করা হয়। রপ্তানিকৃত এসব অস্ত্র ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘনের ঝুঁকি থাকায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি। তবে এখনো ইসরায়েলের সঙ্গে অস্ত্র রপ্তানির ৩২০টি লাইন্সেস কার্যকর রয়েছে যুক্তরাজ্যের।
এক বিবৃতিতে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ল্যামি বলেন, এই স্থগিতাদেশ কোনো সার্বিক নিষেধাজ্ঞা বা অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা নয়। ইসরায়েলের কাছে ব্রিটিশ অস্ত্র রপ্তানি মোট অস্ত্রের ১ শতাংশেরও কম উল্লেখ করে তিনি জানান, এই স্থগিতাদেশ ইসরায়েলের নিরাপত্তায় কোনো বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না। অস্ত্র ছাড়াও সামরিক বিমান, যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার এবং ড্রোনের জন্য ব্যবহৃত উপকরণ এই স্থগিতাদেশের আওতাভুক্ত থাকবে। এর আগে গত জুলাইয়ে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর, ইসরায়েলের সঙ্গে অস্ত্র বাণিজ্য আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সুনিশ্চিত করতে একটি পর্যালোচনা করার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মতো ইসরায়েলের কাছে সরাসরি অস্ত্র বিক্রি করে না যুক্তরাজ্য। আইন অনুযায়ী কোনো অস্ত্র বিক্রিয়কারী কোম্পানিকে লাইসেন্স প্রদান করে থাকে দেশটি।
এদিকে, তুমুল বিক্ষোভের মুখে জিম্মিদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হওয়ার দায় স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত শনিবার গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফা এলাকার একটি সুড়ঙ্গ থেকে ছয় জিম্মির মরদেহ উদ্ধার করে ইসরায়েলি সেনারা। এরপর থেকেই বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে ইসরায়েল। জিম্মিদের পরিবারের সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে ধর্মঘট পালন করে দেশটির প্রধান ট্রেড ইউনিয়ন। ধর্মঘটে কার্যত অচল হয়ে পড়ে রাজধানী তেল আবিব, জেরুজালেমসহ পুরো দেশই। সেখানে জিম্মিদের মুক্তি চুক্তি করতে ব্যর্থ হওয়ায় নেতানিয়াহু ও তার সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে আন্দোলনকারীরা। তবে, ফিলিস্তিনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ফিলডেলফি করিডরের নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলকে দিতে হবে বলে জানিয়েছেন নেতানিয়াহু। তার অভিযোগ, গাজা সীমান্তে মিসরের সঙ্গে এই করিডর দিয়ে দীর্ঘদিন হামাস অস্ত্রের চোরাচালান করে আসছে। কিন্তু ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস যুদ্ধ বন্ধে সতর্কতা জানিয়েছে ইসরায়েলকে। গাজায় আগ্রাসন বন্ধ না করলে আরও জিম্মিকে লাশ হয়ে পরিবারের কাছে ফিরতে হতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে হামাসের সামরিক শাখা। এক বিবৃতিতে হামাসের সশস্ত্র শাখা কাসেম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবায়দা বলেন, ‘একটি চুক্তি সইয়ের পরিবর্তে নেতানিয়াহু গাজায় হত্যা ও নির্যাতনের মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্ত করতে চাওয়ার কারণেই জিম্মিরা কফিনে করে পরিবারের কাছে ফিরছেন।’ এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘জিম্মিদের পরিবারগুলোকে একটি বিকল্প বেছে নিতে হবে। হয় তারা মৃত অবস্থায় ফিরবেন, নয়তো জীবিত।’
