বাংলাদেশের সঙ্গে বিগত সরকারের আমলে হওয়া দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈদেশিক ঋণচুক্তিগুলো পর্যালোচনা করবে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত ‘শ্বেতপত্র প্রণয়ন’ কমিটি। বিশেষ করে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে হওয়া জ্বালানি খাতের ঋণচুক্তিগুলো পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানরত বিভিন্ন খাতে বিশ্লেষক ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনায় বসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্বেতপত্র কমিটি। এর অংশ হিসেবে বাংলাদেশে যারা সমাজবিজ্ঞান, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সঙ্গে যারা যুক্ত আছেন তাদের সঙ্গে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আলোচনা করা হবে। গতকাল মঙ্গলবার শ্বেতপত্র কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বৈঠকের সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আমরা আলোচনায় যাব। সেই আলোচনা শুধু ঢাকায় নয়, ঢাকার বাইরেও হবে। দেশের বাইরেও আমরা আলোচনা করব। যেসব নাগরিক বিদেশে, ঢাকার বাইরে আছেন এবং ঢাকার ভেতরে যারা বিভিন্ন পেশায় যুক্ত আছেন তাদের মতামত নেব।
বৈঠকের আলোচনার বিষয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সুনির্দিষ্টভাবে কী কী বিষয়ের ওপর আমরা মনোযোগ দেব, সেই বিষয়গুলো আমরা চিহ্নিত করেছি। সেই বিষয়গুলো কে কী কীভাবে লিখবেন সেই দায়িত্ব বণ্টন করেছি। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়েছি এটা লেখার ক্ষেত্রে যেসব পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। সেটা আমরা একদিকে যেসব উৎস থেকে তথ্য পাব সেসব আমরা অনেক সমালোচক দৃষ্টিতে দেখব। সঠিকতা যাচাই করব এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানের সঙ্গে তুলনা করে দেখব। একই সঙ্গে যেসব গবেষণা এই এলাকাগুলোতে আছে। সেগুলো আমরা পর্যালোচনা করব।
শে^তপত্র কমিটির কাজের সময়সীমা উল্লেখ করে এ অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘আগামী দুমাসের ভেতরে কীভাবে কাজগুলো এগিয়ে নিয়ে যাব সেটার ব্যাপার আজকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।’
বিদেশে অবস্থানরত বিশিষ্টজনদের সঙ্গে কীভাবে বসবেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিদেশের সঙ্গে আলোচনা করা তুলনামূলকভাবে সহজ। আগামী পরশুদিনই আমরা আলোচনা করছি সন্ধ্যা বেলায়। বাংলাদেশে যারা সমাজবিজ্ঞান অর্থনীতিবিদ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান এগুলোর সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞরা আছেন তাদের সঙ্গে আমরা এই আলোচনাটা করছি।’
শ্বেতপত্র কমিটি যেসব বিষয়ে কাজ করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাধারণ অর্থনীতি, সামষ্টিক অর্থনীতি বিষয় যেমন আছে। এটার মধ্যে খাতওয়ারি বিভিন্ন শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাত থেকে শুরু করে জ¦ালানি খাত ইত্যাদি আলোচনার মধ্যে আছে। আবার কিছু প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাপারও আছে। সেটা হলো ব্যাংকিং খাতের আলোচনা আছে, কর আহরণের ব্যাপার আছে। একইভাবে পাচারকৃত অর্থ নিয়ে আলোচনা আছে। মেগা প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা আছে, দারিদ্র্য বিমোচন, আমাদের বৈষম্যের আলোচনা আছে ভঙ্গুরতা এসব নিয়েও আলোচনা হবে।
কমিটির কে কোন বিষয়ে কাজ করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগে উপদেষ্টাকে দেই, তারপর আপনাদের দেব।’
প্রথম রিপোর্ট কবে প্রকাশ করা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আজকে পরিকল্পনা করলাম। আগামী দুই তিন দিনের মধ্যে প্রারম্ভিক পরিচ্ছেদ অনুযায়ী আউটলাইনগুলো পাব। তারপর আমরা বলতে পারব। কাজ শুরু হয়ে গেছে এইটুকু বলতে চাই।
বিদেশি ঋণের যে চুক্তি হয়েছিল সেই বিষয় শ্বেতপত্র কমিটি দেখবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিভিন্ন চুক্তির বিষয় যদি আমাদের লভ্য হয় তাহলে নিঃসন্দেহে এগুলো আমরা দেখব। এটা বিশেষ করে জ্বালানি খাতের জন্য চিন্তা করা হয়েছে।
গত ২৮ আগস্ট শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি গঠনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছিল, এই শ্বেতপত্রে দেশের বিদ্যমান অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি অর্থনৈতিক বিষয়ে সরকারের কৌশলগত পদক্ষেপ, জাতিসংঘের টেকসই অভীষ্ট লক্ষ্য বাস্তবায়ন ও বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে করণীয় বিষয়ের প্রতিফলন দেখা যাবে। কমিটি ৯০ দিনের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করবে বলেও সেদিন জানানো হয়।
