১৩ সেকেন্ডে গোল করেও ইতালির কাছে হার ফ্রান্সের

ফ্রান্স ১-৩ ইতালি

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:২৩ পিএম

ম্যাচ শুরু হতে না হতেই ইতালির জালে বল! প্যারিসের গ্যালারিতে তখন ফরাসি সমর্থকদের উল্লাস। তবে সেই উল্লাস বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি ফ্রান্স। দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে উয়েফা নেশনস লিগের নতুন আসরে শুভসূচনা করলো ইতালি। প্যারিসে শুক্রবার রাতে ‘এ’ লিগের দুই নম্বর গ্রুপের ম্যাচে ফ্রান্সকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে ইতালি।

প্যারিসে নিজেদের ঘরের মাঠে প্রতিপক্ষের ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রথম মিনিটেই ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন ব্র্যাডলি বারকোলা। সতীর্থের ব্যাক-পাসে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে অপেক্ষায় ছিলেন ইতালির ডিফেন্ডার জিওভান্নি দি লরেনজো। তার সামনে থেকে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন বারকোলা। ডান পায়ের শটে এগিয়ে আসা গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি। ১৩ সেকেন্ডে করা এই গোলটি ফ্রান্সের ইতিহাসে দ্রুততম। 

ফ্রান্সের হয়ে আগের দ্রুততম গোলের রেকর্ড ছিল বার্নার্দ লাকুম্বের। ১৯৭৮ সালের বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে ইতালির বিপক্ষেই ৩৭ সেকেন্ডে গোল করেছিলেন তিনি। অন্যদিকে নেশনস লিগে এই রেকর্ডটি ছিলো সুইজারল্যান্ডের হারিস সেফেরোভিচের। ২০২২ সালে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচের ৫৭ সেকেন্ডে গোলটি করেছিলেন তিনি। আর ইতালিও এতো দ্রুত গোল হজমের লজ্জা পেলো। আগের রেকর্ডটি ২৩ সেকেন্ডের। 

ম্যাচের শুরুতে গোল হজম করে পিছিয়ে পড়ে ইতালি। তবে ষষ্ঠ মিনিটেই সমতায় ফিরতে পারতো তারা। সতীর্থের হেড পাসে কাছ থেকে ডিফেন্ডার ফ্রাত্তেসির হেড ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। ফিরতি বলে মাতেও রেতেগির হেড চলে যায় ওপর দিয়ে। পরের মিনিটে সুযোগ তৈরি করে ফ্রান্স। এমবাপ্পের নিচু শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। 

৩০ মিনিটে চমৎকার গোলে সমতায় ফেরে ইতালি। ডান দিক থেকে সতীর্থের ক্রসে বল পেয়ে বক্সের বাইরে সান্দ্রো টোনালিকে পাস দিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়েন দিমারকো। টোনালির ফ্লিকে বল পেয়ে দারুণ ভলিতে জাল খুঁজে নেন এই ডিফেন্ডার। ৩৯ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বারকোলার নিচু শট প্রতিপক্ষের পায়ে লেগে পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। 

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে রাসপাদোরির শট ঠেকান ফ্রান্সের গোলরক্ষক মাইক মেইগনান। ৫০তম মিনিটে দারুণ আক্রমণ থেকে এগিয়ে যায় ইতালি। রেতেগির পাসে ছুটে গিয়ে বক্সে প্রথম স্পর্শে বাঁ পায়ের শটে গোল করেন ফ্রাত্তেসি। 

৭৪ মিনিটে ব্যবধান বাড়ায় ইতালি। সতীর্থের পাস বক্সে পেয়ে ফরাসি ডিফেন্ডারের বাধা এড়িয়ে ডান পায়ের শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন রাসপাদোরি। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম ফ্রান্সের বিপক্ষে জয় পেলো ইতালি। মাঝে তিন ম্যাচের দেখায় সবগুলোতেই হেরেছিল ইতালি। 

বারকোলার গোলের পর দোন্নারুম্মাকে দেখা যায় রেফারির সঙ্গে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে কথা বলতে। নিশ্চিতভাবেই গোলটি নিয়ে কিছু বলছিলেন তিনি। তবে তার আপত্তি টেকেনি রেফারির কাছে। ম্যাচ শেষে অবশ্য খুশি দোন্নারুম্মা। প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে পারায় জয় ধরা দিয়েছে বলে মনে করেন ইতালিয়ান অধিনায়ক।

'আমি তো প্রস্তুতই ছিলাম না। গ্লাভসও তখন ঠিকঠাক পরতে পারিনি। আমরা খুব একটা চটপটেও হতে পারিনি তখন। বল তো আমাদেরই ছিল, আরও একটু সময় ধরে রাখতে পারতাম।' তিনি বলেন, 'তবে এরপর আমরা দারুণভাবে সাড়া দিয়েছি। এত দ্রুত গোল হজম করার পর কাজটা কখনোই সহজ নয়। তবে ছেলেরা ধীরস্থির থেকেছে এবং অনুশীলনে যা করেছি, সেটা করায় মনোযোগী হয়েছে। ম্যাচ জয়ের জন্য এসবই জরুরি ছিল।'

দলের হার না মানা মানসিকতার প্রশংসা করলেন কোচ লুসিয়ানো স্পালেত্তি। বিশেষ করে, তরুণদের মানসিকতা মুগ্ধ করেছে কোচকে।

'শুরুর ওই দুর্ভাগ্যের পর সবাই একতাবদ্ধ হয়ে খেলা জরুরি ছিল। কখনও কখনও এই ধরনের পরিস্থিতিতে অস্থির হয়ে অনেকে আরও বিপদ ডেকে আনতে পারে। আমাদের মানসিক শক্তি এখানেই ছিল দ্বিগুণ। ভয় পেয়ে বসলে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করা যায় না।'

'আমরা এমন এক দল ফুটবলারকে বেছে নিয়েছি, যারা সবসময় খেলায় ছিল এবং হাল ছাড়েনি। মৌসুমের শেষ সময়টার চেয়ে ওরা এখন একটু বেশি তরতাজা। আমরা সৌভাগ্যবান যে, তরুণ কিছু ফুটবলারকে পেয়েছি, যারা নিজেদের প্রমাণ করতে মরিয়া। ব্যক্তিগত এই তাড়না ও আবেগ যে কোনো সাফল্যের জন্য জরুরি।'

গ্রুপের আরেক ম্যাচে ইসরায়েলকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে বেলজিয়াম। ম্যাচে জোড়া গোল করেন কেভিন ডি ব্রুইন।  

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত