অস্ত্র জমা দেননি আখাউড়ার সাবেক মেয়র, দাবি লুট হয়েছে

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০২:০৭ পিএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তাকজিল খলিফা কাজল তাঁর ব্যবহৃত পিস্তলটি জমা দেননি। তাঁর দাবি, গত ৫ আগস্ট তাঁর বাড়িতে হামলা চালিয়ে অর্থ-স্বর্ণালংকারসহ লাইসেন্সকৃত পিস্তলটিও লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। 

বিগত আওয়ামী লীগের শাসনামলে লাইসেন্সকৃত সকল অস্ত্র জমা দেওয়ার সরকারের নির্ধারিত সময়সীমা গত ৩ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। তবে শেষ দিনে পর্যন্তও তিনি অস্ত্র জমা দেননি বলে নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসনের একটি বিশ্বস্ত সূত্র। 

জানা গেছে, তিনি পিস্তলের লাইসেন্স পাওয়ার প্রয়োজনীয় দলিলপত্র ও অস্ত্র লুট হওয়ার বিষয় অবগত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত আবেদন পাঠান। দুটি আবেদনই ৩ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর করা।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তথা জেলা প্রশাসকের কাছে করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রতিনিধির মাধ্যমে থানায় সাধারণ ডায়রি করতে ব্যর্থ হয়ে সেখানে বিষয়টি অবগত করতে ডাকযোগে লিখিত পাঠানো হয়েছে। ওসির বরাবর করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশের চলমান পরিস্থিতির কারণে সাধারণ ডাইরি করার আবেদন করতে দেরি হলো। এছাড়া ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতায় থাকায় অনলাইনে জিডি এন্ট্রি করা হয়। তাকজিল খলিফার নামে ২০১৯ সালের ২১ জুলাই এনপিবি পিস্তলের লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। পিস্তলটি জার্মানের তৈরি। 

এ বিষয়ে আখাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল জানিয়েছেন, অস্ত্র হারানো বিষয়ে অস্পষ্ট লেখার একটি কাগজ আমার ফোনে এসেছে। কে এটি পাঠাল সেটিও আমাকে নিশ্চিত করা হয়নি। এছাড়া এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো কাগজ এলে সেটি ধর্ত্যব্যের মধ্যে পড়ে না। আর ডাকযোগে পাঠানো কাগজ এখনো তিনি পাননি।

জেলা প্রশাসনের সূত্র জানায়, ২০০৯ সাল থেকে যেসব অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয় সেগুলো বাতিল করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেন সরকার। এ অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে সমপর্ণযোগ্য ৬৩টি অস্ত্রের মধ্যে নির্ধারিত সময়ে ৬০টি জমা পড়েছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে পিস্তল, শটগান ও দুনালা বন্দুক।

স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, ৫ আগস্ট মেয়রের পৌর এলাকার রাধানগরের বাড়ির সামনে আন্দোলনকারীদের মিছিল এলে ছাদ থেকে ঢিল ও ককটেল ছোড়া হয়। এরপরই তাঁর বাড়িতে হামলা হলে তাকজিল খলিফা পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা মেয়রের বাড়িতে ব্যাপক হামলা-ভাঙচুর চালায়। এ সময় তাঁর ঘরে লুটপাট চালানো হয়। সেদিন রাতে মেয়র তাঁর গ্রামের বাড়িতে চলে গেলেও সঙ্গে পিস্তল ছিলো না বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। 

তাকজিল খলিফা সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠজন। তৃতীয়বার মেয়র হওয়ার পর তিনি পিস্তল ব্যবহার শুরু করেন। শুরুর দিকে তিনি বেআইনিভাবে প্রকাশ্যে কোমরে রেখে ঘোরাফেরা করতেন। কয়েকমাস এভাবে দৃশ্যমান দেখার পর অবশ্য তিনি কোমরে রাখলেও সেভাবে কারো চোখে পড়তো না।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন সুলতানা  বলেন, ‘আমরা সমর্পণযোগ্য ৬৩টি অস্ত্রের মধ্যে ৬০টি নির্ধারিত সময়ে জমা পেয়েছি। বাকি যে তিনজন দেননি তাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এখন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত