দুই সপ্তাহ আগে ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। সে সময় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধের সামরিক শাখা ঘোষণা করে যে, তারা ইহুদিবাদী দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর জন্য বিস্ফোরক ব্যবহার করেছে এবং তেল আবিব সরকারের সামরিক যানগুলোকে উড়িয়ে দিয়েছে।
ফিলিস্তিনি বাহিনীর অভিযানের সময় ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীরা তাদের বেশ কয়েকটি সামরিক যান ধ্বংসের পাশাপাশি বস্তুগত ও মানবিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। অধিকৃত পশ্চিম তীরে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ও সামরিক ব্যবস্থা রয়েছে এবং সমগ্র পশ্চিম তীরে ইহুদিবাদী সামরিক বাহিনীর ৭০০টিরও বেশি সামরিক চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব সামরিক ব্যবস্থা ভেঙে কীভাবে পশ্চিম তীরের যোদ্ধারা প্রতিরোধ গড়ে তোলে বা তার জন্য সরঞ্জামই বা কোথায় পায়-এমন প্রশ্ন থেকেই যায়।
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো তাদের অস্ত্র ও সরঞ্জামের উৎস এবং কীভাবে তারা বিস্ফোরক তৈরি করে তা প্রকাশ করে না; কিন্তু ইহুদিবাদী মিডিয়া এবং ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী কর্তৃক প্রকাশিত কিছু প্রতিবেদনের পাশাপাশি বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী এসব অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে কিছু তথ্য পাওয়া যায়।
ফিলিস্তিনি সামরিকবিষয়ক বিশ্লেষক ইউসুফ আল-শারকাউই বিশ্বাস করেন, পশ্চিম তীরে প্রতিরোধ গোষ্ঠী গঠনের জন্য ইহুদিবাদী শাসকদের দখলদারিত্বই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রেরণা। যদি ইসরায়েল দখলদারিত্ব কায়েম না করত, তাহলে সশস্ত্র প্রতিরোধ গোষ্ঠীও গড়ে উঠত না।
অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে অস্ত্রের বাজারগুলো উন্মুক্ত। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফিলিস্তিনি উপজাতি ও গোষ্ঠী বিভিন্ন উপায়ে দখলদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অস্ত্রগুলোই ছিনিয়ে অথবা অন্য যে কোনো উপায়ে সংগ্রহ করে।
ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদী দখলদারিত্ব শুরু হওয়ার ৭৬ বছর এবং ইসরায়েলি শাসকদের দ্বারা পশ্চিম তীর দখলের ৫৬ বছর পর ফিলিস্তিনি দলগুলো এমন একটি অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে; যা তাদের অস্ত্র প্রাপ্তির উৎস প্রকাশ না করেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর অস্ত্র এবং সামরিক সরঞ্জাম পেতে সক্ষম করে তুলেছে।
ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা পশ্চিম তীরে যেসব বিস্ফোরক তৈরি করে সে সম্পর্কে ইউসুফ আল-শারকাউই বলেন, ইহুদিবাদী শাসক স্পষ্টভাবে বলেছে যে, এসব বিস্ফোরক তৈরির কাঁচামাল বাজারে পাওয়া যায় এবং সেগুলো তৈরি ও প্রস্তুত করার পদ্ধতি ইন্টারনেটেই রয়েছে।
মণিপুরে সহিংসতায় নিহত ৬
ইসরায়েলি হামলায় দুই দিনে ৬১ ফিলিস্তিনির মৃত্যু