পরিদর্শনে ৩ উপদেষ্টা

গণভবনের জাদুঘরে থাকবে ১৬ বছরের নিপীড়নের চিত্র

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:০৮ এএম

গণভবনকে শিগগির জাদুঘরে রূপান্তরের পর সেখানে জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের নানা স্মৃতির পাশাপাশি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের গুম, খুন, নির্যাতনের সামগ্রিক চিত্রও থাকবে। সেখানে যেসব স্থাপনা ভাঙা অবস্থায় রয়েছে, সেগুলো একই অবস্থায় রেখে জাদুঘর করা হবে।

গতকাল শনিবার সকালে গণভবন পরিদর্শনে গিয়ে এসব কথা বলেন অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার এবং ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। এ সময় আরও ছিলেন শিল্প, গণপূর্ত ও গৃহায়ন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। পরিদর্শন শেষে তারা গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অনেক রক্তের বিনিময়ে আমরা ৫ আগস্ট নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। জনগণের বিজয়কে ধারণ করে রাখার উদ্দেশ্যেই গণভবনের বর্তমান ভগ্নাবশেষ অক্ষত রেখেই জাদুঘরে রূপান্তর করা হবে, যা জনগণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। যেকোনো ফ্যাসিস্ট, স্বৈরাচারী এবং খুনি রাষ্ট্রনায়কদের কী পরিণতি হয়, তা পৃথিবীর বুকে একটা নিদর্শন হিসেবে রাখার জন্য এই ভবনকে জাদুঘর করা হচ্ছে। জনগণই যে রাষ্ট্র ক্ষমতার আসল মালিক, সেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে গণভবনকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘরে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে প্রথমত ৩৬ দিনের (জুলাই-আগস্ট) পুরো সময়ের স্মৃতির দিনলিপি থাকবে। যারা নিহত হয়েছেন, তাদের তালিকা থাকবে, স্মৃতি থাকবে। এই আন্দোলন ছাড়াও গত ১৬ বছরের লড়াইয়ের একটি মুহূর্ত আমরা ৫ আগস্ট পেয়েছিলাম। এই ১৬ বছরে যে নিপীড়ন হয়েছে, যারা গুম হয়েছেন, তাদের তালিকা থাকবে। যারা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন, এসব বিষয়ের একটি উপস্থাপনা থাকবে।’

প্রধানমন্ত্রীর রাষ্ট্রীয় বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত গণভবনকে জুলাই-আগস্টে কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সরকার পতনের আন্দোলন ঘিরে সংঘাত-সহিংসতার ঘটনার স্মৃতি ধরে রাখতে জাদুঘর করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিন উপদেষ্টা গতকাল সেখানে পরিদর্শনে যান।

উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আগামী সপ্তাহ থেকে আমরা কাজ শুরু করব। দ্রুত কাজ শেষ করে যেন উদ্বোধন করা যায়, তা বলা হয়েছে। একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি থাকবে। দেশ-বিদেশের শিল্পী ও জাদুঘর-বিশেষজ্ঞ এবং অভ্যুত্থানের স্মৃতি জাদুঘর করার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গণভবনে আমরা দেখেছি, প্রচুর দেয়াললিখন রয়েছে, গ্রাফিতি রয়েছে। মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ পুরো ভবনের চারপাশে। এখানে যেসব আসবাব লুট হয়েছে, পরে যেগুলো মানুষ রেখে গেছেন সব কটি সংরক্ষণ করা হয়েছে। আমরা চেষ্টা করব সেগুলোকে রেখেই কার্যক্রম শুরু করতে।’

গণভবন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন কোথায় হবে, তা নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা আলোচনা করেছেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি পরে আলোচনা হবে। আর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এখন যেখানে আছেন, সেখানেই থাকবেন।’

আন্দোলনে আহত ব্যক্তিদের তালিকা ও চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে নাহিদ বলেন, ‘আমাদের শহীদ পরিবারের তালিকা শেষের দিকে। এসব পরিবার নিয়ে আমরা স্মরণসভার আয়োজন করব। সেখানেই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ঘোষণা দেওয়া হবে। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতিসহ অন্যান্য প্রতিশ্রুতি ও হতাহতের তালিকা আমরা সেখানে ঘোষণা করব।’

শেখ হাসিনা ছাড়াও গণভবনে তো আরও অনেক প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তাদের স্মৃতি সংরক্ষণের কোনো উদ্যোগ রয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে শিল্প, গণপূর্ত ও গৃহায়ন উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান কারও নাম উল্লেখ না করে বলেন, ‘এক টাকা দিয়ে মালিকানা নিয়ে নেওয়া হয়েছিল, না? এক টাকা দিয়ে। জনগণের ছিল কতখানি। আমরা জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার চিন্তা করছি।’

বিভিন্ন মাজারে হামলা, শিক্ষকদের নিপীড়নসহ নানা ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে কি নাÑ এমন প্রশ্নের উত্তরে এই উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। এমন ঘটনা যেন না ঘটে, সেজন্য উদ্যোগ নিচ্ছি। এ ধরনের ঘটনা একেবারে অগ্রহণযোগ্য।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত