চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে সারবাহী জাহাজের আঘাতে ডালবাহী জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর ২টার দিকে বন্দরের বহির্নোঙরে আলফা অ্যাংকরেজে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় দুই জাহাজের প্রপেলার আটকে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা পর আটকে যাওয়া প্রপেলার মুক্ত করার পর জাহাজ দুটি নিরাপদ দূরত্বে রাখা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ এমভি ফ্রেন্ডলি আইল্যান্ড আগে থেকেই আলফা অ্যাংকরেজে অবস্থান নিয়ে মসুর ডাল খালাস করছিল। আর ডিএপি সার বহনকারী পানামার পতাকাবাহী জাহাজ নাভিওস সেলেসটিলার অবস্থান ছিল কুতুবদিয়ার কাছাকাছি। দুপুরে হঠাৎ করে নাভিওস সেলেসটিলা ছুটে এসে ফ্রেন্ডলি আইল্যান্ডকে ধাক্কা দেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এমভি ফ্রেন্ডলি আইল্যান্ড জাহাজের এজেন্ট টোটাল শিপিংয়ের শহীদুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাদের জাহাজটি অস্ট্রেলিয়া থেকে ২৭ হাজার ২১০ টন মসুর ডাল নিয়ে গত ১৪ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। আসার পর থেকে অনুকূল পরিবেশে ডাল খালাস করা হচ্ছিল। বর্তমানে বাকি রয়েছে আরও ২ হাজার ৮৩০ টন ডাল। নোঙর করা জাহাজে এসে ধাক্কা দেয় ডিএপি সার বহনকারী জাহাজটি। এতে ডালবাহী জাহাজটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে পারেননি তিনি।
নোঙর করা অন্য জাহাজে ধাক্কা দেওয়ার কথা জানান পানামার পতাকাবাহী নাভিওস সেলেসটিলা জাহাজের এজেন্ট কোম্পানি শোর লাইন শিপিংয়ের আজাদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘শুনেছি আমাদের জাহাজটি ডালবাহী অন্য একটি জাহাজকে ধাক্কা দিয়েছে। আমাদের জাহাজে ৪৩ হাজার ৭৫৫ টন সার ছিল।’
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ডেপুটি কনজারভেটর ক্যাপ্টেন ফরিদুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জাহাজ দুটির প্রপেলার আটকে যাওয়ার পর উভয় জাহাজের ক্যাপ্টেনের সহায়তায় জাহাজ দুটি মুক্ত হয়।’
পণ্যবাহী জাহাজগুলো চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে লাইটার জাহাজে (ছোট জাহাজ) পণ্য খালাস করে। সেই লাইটার জাহাজে করে পণ্য নৌপথে দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যায়। আবার কখনো কখনো কর্ণফুলী নদীর ঘাটগুলোতে নিয়ে আসা হয়।
