অস্ত্র জমা দেননি সাবেক মেয়র, দাবি লুট হয়েছে

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:২১ এএম

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. তাকজিল খলিফা কাজল তার ব্যবহৃত পিস্তলটি জমা দেননি। তিনি দাবি করেছেন, গত ৫ আগস্ট তার বাড়িতে হামলা চালিয়ে অর্থ-স্বর্ণালংকারসহ লাইসেন্স করা পিস্তলটিও লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে লাইসেন্স পাওয়া সব আগ্নেয়াস্ত্র জমা দেওয়ার সরকার নির্ধারিত সময়সীমা গত ৩ সেপ্টেম্বর শেষ হয়েছে। তবে শেষ দিন পর্যন্তও তাকজিল খলিফা কাজল অস্ত্র জমা দেননি বলে নিশ্চিত করেছে জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র।

জানা গেছে, তিনি পিস্তলের লাইসেন্স পাওয়ার প্রয়োজনীয় দলিলপত্র ও অস্ত্র লুট হওয়ার বিষয়টি অবগত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও আখাউড়া থানার ওসি বরাবর লিখিত আবেদন পাঠান। দুটি আবেদনই ৩ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষর করা।

জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তথা জেলা প্রশাসকের কাছে করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়, প্রতিনিধির মাধ্যমে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে ব্যর্থ হয়ে সেখানে বিষয়টি অবগত করতে ডাকযোগে লিখিত চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওসির বরাবর করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়, দেশের চলমান পরিস্থিতির কারণে জিডির আবেদন করতে দেরি হলো। এ ছাড়া ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতায় থাকায় অনলাইনে জিডি এন্ট্রি করা হয়। তাকজিল খলিফার নামে ২০১৯ সালের ২১ জুলাই এনপিবি পিস্তলের লাইসেন্স ইস্যু করা হয়। পিস্তলটি জার্মানির তৈরি।

এ বিষয়ে আখাউড়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোহেল বলেন, ‘অস্ত্র হারানোর বিষয়ে অস্পষ্ট লেখার একটি কাগজ আমার ফোনে এসেছে। কে এটি পাঠাল সেটিও আমাকে নিশ্চিত করা হয়নি। এ ছাড়া এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে কোনো কাগজ এলে সেটি ধর্ত্যব্যের মধ্যে পড়ে না। আর ডাকযোগে পাঠানো কাগজ এখনো হাতে পাইনি।’

জেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট শাখার এক কর্মকর্তা জানান, ২০০৯ সাল থেকে যেসব অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয় সেগুলো বাতিল করে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেয় সরকার। এ অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে সমপর্ণযোগ্য ৬৩টি অস্ত্রের মধ্যে নির্ধারিত সময়ে ৬০টি জমা পড়েছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে পিস্তল, শটগান ও দুনলা বন্দুক।

জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট মেয়রের পৌর এলাকার রাধানগরের বাড়ির সামনে আন্দোলনকারীদের মিছিল এলে ছাদ থেকে ঢিল ও ককটেল ছোড়া হয়। এরপরই তার বাড়িতে হামলা হলে তাকজিল খলিফা পাশের একটি বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা মেয়রের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। এ সময় তার ঘরে লুটপাট চালানো হয়। সেদিন রাতে মেয়র তার গ্রামের বাড়িতে চলে গেলেও সঙ্গে পিস্তল ছিল না বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

তাকজিল খলিফা সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত। তৃতীয়বার মেয়র হওয়ার পর তিনি পিস্তল ব্যবহার শুরু করেন। শুরুর দিকে বেআইনিভাবে প্রকাশ্যে কোমরে পিস্তল রেখে ঘোরাফেরা করতেন। কয়েক মাস এভাবে দৃশ্যমান রাখার পর অবশ্য তিনি কোমরে পিস্তল রাখলেও সেভাবে কারও চোখে পড়ত না।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন সুলতানা বলেন, ‘আমরা সমর্পণযোগ্য ৬৩টি অস্ত্রের মধ্যে ৬০টি নির্ধারিত সময়ে জমা পেয়েছি। বাকি যে তিনজন দেননি তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী এখন তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত