হাসপাতালে নিতে অটোতে তুলে দেখেন সন্তানের লাশ

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৪:৫৭ পিএম

দিনটি ছিল ২১জুলাই। সময় বিকাল ৫টা। ব্যাটারী চালিত একটি গাড়ি নিয়ে ধনিয়া এলাকায় একটি প্রাইভেট হাসপাতালের সামনে অপেক্ষমান ছিলেন ওবায়দুল খান। স্থানীয় কয়েকজন লোক এসে দুজন আহত ব্যক্তিকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে যাবার জন্য ওবায়দুলের গাড়ি ভাড়া করেন। গাড়িতে আহতদের উঠাতেই হঠাৎ অজ্ঞান হয়ে যান তিনি। কারণ গুলিবৃদ্ধ (আহত) অবস্থায় তারই একমাত্র সন্তান আমিনুল (১৬) । এমন ঘটনা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ঢাকার ধনিয়া এলাকায়। নিহত আমিনুল পটুয়াখালী বাউফল উপজেলার কেশবপুর ইউনিয়নের ভরিপাশা গ্রামের অটোরিক্সা  চালক ওবায়দুল খাঁনের ছেলে।

অভাবের সংসারে পরিবারের বাড়তি আয়ের জন্য আমিন বাবা-মায়ের সাথে ঢাকায় পাড়ি জমান ২০২২সালে । বসবাস শুরু করেন ঢাকার ধনিয়া এলাকায়। কাজ নেন একটি বৈদ্যুতিক সুইস নির্মাণ কারখানায়। পরিবারের হাল ধরতে কাজে যোগ দেয়া এই শিশু শ্রমিকের প্রাণ কেরে নিল কোটা আন্দোলনে সাধারণ ছাত্রদের উপর ছোড়া পুলিশের গুলি। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ তার রিকশাচালক পিতা। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেদিন ২১ জুলাই আমিন সারাদিন বাসায় ছিল। বিকেল ৫ টার সময় বাসার সামনেই রাস্তায় গেলে মানুষের দৌড়াদৌড়ি দেখে ভয়ে একপাশে দাড়িঁয়ে থাকে। পুলিশের ছোড়া একটি গুলি হঠাৎ এসে ওর বুকের বাম পাশে ঢুকে পিছন দিয়ে বের হয়ে যায়। সাথে সাথে আমিন মাটিতে লুটিয়ে পরে। স্থানীয় দুইজন লোক তাকে উদ্ধার করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দেন। এসময় সেই হাসপাতালের সামনে অপেক্ষমান ব্যাটারিচালিত রিক্সা তার বাবা ওবায়দুল খান। ওই দুইজন লোক তাকে ডেকে আহত দুজনকে ঢাকা মেডিকেলে যাওয়ার কথা বলেলে তিনি রাজি হন। আহতদের নিয়ে ওই দুইজন রিকশায় ওঠার সময় ওবায়দুল দেখতে পায় নিজের একমাত্র ছেলে আমিনের এই অবস্থা। সাথে সাথে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অজ্ঞান অবস্থায় তাকেসহ তার সন্তান গুলিবিদ্ধ আমিনকে ঢাকা মেডিকেলে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমিনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ পুরো পরিবার।

সন্তানের লাশের বোঝা যে বাবা কাঁধে নেন তিনিই বোঝেন সন্তন হারানোর বেদনা। সন্তান হারানো এতটা কষ্টের, যা কাউকে বলে বোঝানো যায় না। যতদিন বাঁচি, এই বেদনা বয়ে যেতে হবে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন নিহত শিশু শ্রমিক আমিনের বাবা। তার ছেলেকে যারা হত্যা করেছেন তাদেরকে আইনের অওতায় এনে বিচারের দাবিও করেন তিনি।

এদিকে, একমাত্র নাতির মৃত্যুতে পাগল প্রায় দাদী লাভলী বেগম। কান্নায় ভেঙে পড়ছেন, বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন।

মৃত আমিনের বন্ধুরা জানান, আমিন ভাল ছাত্র ছিলেন, অভাবের কারণে লেখাপড়া করতে পারেনি। সে খুব শান্ত ও নম্র প্রকৃতির ছিল। আমিনের মৃত্যুর বিচারের দাবি তাদের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত