‘তিলে তিলে গড়া সংসার বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। শুধু দাঁড়িয়ে আছে ঘরের টিনগুলো। তাও নড়বড়ে। হাতের স্পর্শ পেলেই পড়ে যাবে সেই টিনও। নষ্ট হয়ে গেছে ঘরের ভেতরের প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র। কিছুই রইলো না আর।’ ১৬ দিন পর আশ্রয় কেন্দ্র থেকে বাড়িতে আসার পর থাকার একমাত্র বসত ঘরটির এমন দৃশ্য দেখে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কথাগুলো বলছিলেন কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার গৃহবধূ রহিমা বেগম (৪৭)।
তিনি মৌকরা ইউপির গংগারচর গ্রামে পেয়ার আহাম্মদের স্ত্রী। অসুস্থ স্বামী এক ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে তার সংসার। রহিমা ছাড়াও ওই গ্রামের এখনও ৫০টি পরিবার পানিবন্দি। রহিমার মতো অনেক পরিবার বন্যায় সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে।
রহিমা বেগম বলেন, এ ধরনের বন্যা জীবনে দেখিনি কখনও। ঘরে আমার সব ছিল বন্যায় আমার সব শেষ হয়ে গেলো। বন্যার পানি বাড়তে শুরু করলে স্বামী, ছেলে, মেয়ে সকলকে আশ্রয় কেন্দ্রে ও আত্মীয় স্বজনদের বাড়ীতে পাঠিয়ে দেই। আমি একা বাড়ি থেকে যাই। তিল তিল করে গড়া সংসার কীভাবে একা ফেলে যাই। এক পর্যায়ে ঘরে পানি ডুকে পড়ে। খাটের ওপর পানি ওঠে গেলে ভাসুরের ছেলে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। পরে আশ্রয় কেন্দ্রে ওঠি। ২টি গরু ৫টি ছাগল বোনের বাড়িতে পাঠিয়ে দিই।
১৬ দিন থাকার পর গত শুক্রবার (৬ সেপ্টেম্বর) এসে দেখি রাস্তায় ও আঙিনায় এখনও পানি। ঘরের পানি নেমে গেছে। কিন্তু বন্যার পানির স্রোতে দুটি বসত ঘরের অনেকাংশের মাটি সরে গিয়ে ঘরের বেড়া খুলে গেছে। ঘর হেলে গেছে। সব মালামাল, চাল ডাল, নষ্ট হয়ে গেছে। আমি কীভাবে থাকবো গত দুইদিন ছেলেও মেয়েকে নিয়ে মেরামতের চেষ্টা করতেছি আমার সব শেষ হয়ে গেছে। পরিবারের আয় রোজগার করার মতোন কোন পুরুষ নেই। কি করব। কিছুই বুঝতে পারতেছি না। নতুন করে আবার সংসার করতে হবে।
এ বিষয় নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুরাইয়া আক্তার লাকী বলেন, বন্যায় যাদের ঘর ভেঙে গেছে তাদের আবেদন করতে বলেছি। এ ধরনের যারাই ক্ষতিগ্রস্ত আছে তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। সরকারি বরাদ্দ এলে তাদের পুনর্বাসন করা হবে।
