কুমিল্লায় বন্যায় ৮৬৭৪ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত 

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৯:৫০ পিএম

কুমিল্লায় স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ৮ হাজার ৬৭৪টি ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এসব ঘরবাড়ি একেবারে মেরামতেরও অযোগ্য। অপরদিকে আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৭৪ হাজার ৮১টি ঘরবাড়ি। এইসব ঘরবাড়ি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।

রবিবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এসব তথ্য জানিয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আবেদ আলী। তিনি বলেন, জেলায় বন্যায় এক হাজার কোটি টাকারও বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে মানুষের আবাসিক খাতে।

খোজ নিয়ে জানা যায়, বুড়িচং উপজেলায় সাড়ে ১৬ হাজার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ৪ হাজার ১৪৩টি। মাটির এবং টিনের কাঁচা ঘরবাড়ি ভেঙেছে সবচেয়ে বেশি। গোমতী নদীর বাঁধের ভাঙনে পানির স্রোত যে এলাকা দিয়ে গেছে সে এলাকায় ঘরবাড়িসহ স্থাপনা ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। স্রোতের ধাক্কায় ভেঙে গেছে গ্রামীণ সংযোগ সড়ক, বিলীন হয়েছে কৃষিজমি-হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর খামার। এদিকে উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের ইন্দ্রবতী গ্রামের অন্তত ১৫টি মাটির ঘর ধসে গেছে বন্যার পানিতে। কোনো কোনোটি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। ঘরহারা হয়ে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি ও আশ্রয়কেন্দ্রে থাকছে এসব পরিবারগুলো।

এ বিষয়ে ইন্দ্রবতী গ্রামের বাসিন্দা ধীরেন্দ্র চন্দ্র দাস বলেন, তার ঘরটি মিশে গেছে মাটির সঙ্গে। ছেলের বউ আর দুই নাতি নিয়ে তিনি এখন আত্মীয়ের বাড়িতে আছেন। তার ছেলে বিশ্বজিত বিদেশে থাকে, কিন্তু সেখানে সে বেকার। চাইলেও এখন ঘর বানানোর টাকা পাঠাতে পারবে না। কয় দিন আর মানুষের বাড়ি থাকা যায়।

একই গ্রামের নিখিলের স্ত্রী মঞ্জু রানী দাস বলেন, আমাদের কেউ সহযোগিতা না করলে উদ্বাস্তুর মতো জীবন-যাপন করতে হবে। ছেলেমেয়েগুলো পড়ালেখা করছে। তাদের জীবনও শেষ হয়ে যাবে। সরকারের কাছে আকুল আবেদন আগে ঘরটা যেন ঠিক করে দেয়।

এ বিষয়ে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আবেদ আলী বলেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ ফরম ‘ডি’ মোতাবেক আমরা কুমিল্লার ১৪ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষয়-ক্ষতির বিস্তারিত তালিকা তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠাচ্ছি। সরকারি ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সবাইকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত