কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব বন্ধ করেনি বিএফআইইউ

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১১:৫৮ পিএম

কয়েকটি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন অনিয়মে যুক্ত কিছু ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব স্থগিত করলেও তা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) নির্দেশে হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল এক বিবৃতিতে বিষয়টির ব্যাখ্যায় বিএফআইইউ জানিয়েছে, শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর মানিলন্ডারিং অপরাধ সন্দেহে কিছু ব্যক্তি ও একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের হিসাব স্থগিত করা হয়েছে। কোনো কোম্পানির হিসাব বন্ধ করেনি তারা।

বিএফআইইউ জানিয়েছে, কোম্পানির হিসাব স্থগিত করা হলে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হয়। প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রদান ও অনেক ক্ষেত্রে আমদানি-রপ্তানি সংশ্লিষ্ট লেনদেন বাধাগ্রস্ত হয়। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর এ ধরনের কার্যক্রম অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর ফলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভোগান্তিতে পড়তে পারে, যা মোটেই কাম্য নয়।

এমন পরিস্থিতিতে যেসব ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে তাদের ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে সচল থাকে সেই ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যাংক লেনদেন স্বাভাবিক রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে গত বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর সাংবাদিকদের বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা কোনো প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্ট জব্দ করিনি। সেটা এস আলমের হোক বা সালমান এফ রহমানের হোক। কোনো প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়নি। যাদের অ্যাকাউন্ট জব্দ করা হয়েছে, সব ব্যক্তি অ্যাকাউন্ট। আমরা কোনো ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে হাত দিতে চাই না। কর্মসংস্থান নষ্ট এবং উৎপাদন ব্যাহত হোক আমরা সেটা চাই না।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক মন্ত্রী-এমপি ও তাদের সহযোগীসহ গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার শীর্ষ পদে থাকা ব্যক্তিদের দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও ঋণ কেলেঙ্কারির খবর বেরিয়ে আসতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাব তলব ও জব্দ করে বিএফআইইউ। একই সঙ্গে তাদের স্ত্রী, সন্তানসহ ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক হিসাবের লেনদেন স্থগিত করতে বলা হয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত