সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের বহুল আলোচিত সরাসরি বিতর্ক শুরু হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার রাত ৯টায় (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৭টায়) বিতর্ক শুরু হয়।
মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম এবিসি নিউজ এ বিতর্কের আয়োজন করে। ফিলাডেলফিয়ায় হচ্ছে এ বিতর্ক। খবর আল জাজিরা ও বিবিসি।
বিতর্কের শুরুতে একে ওপরের সাথে হাত মেলান ট্রাম্প ও হ্যারিস। বিতর্কের শুরু অন্যতম বিষয় অর্থনীতি দিয়েই বক্তব্য শুরু করেন কমলা। এরপর ট্রাম্পই একই বিষয়ে কথা বলা শুরু করেন।
বিতর্কের শুরুতে মার্কিন অর্থনীতি নিয়ে কথা বলেন হ্যারিস। এ সময় ট্রাম্পের শুল্কছার নিয়েও তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। এছাড়া ট্রাম্পকে আক্রমণ করে হ্যারিস বলেন, মার্কিন কর্মসংস্থানকে সবচেয়ে বাজে অবস্থায় রেখে গিয়েছিলেন ট্রাম্প। সে সময় বেকারত্বের হার ছিল মন্দার পর সবচেয়ে বাজে অবস্থায়। এছাড়া ট্রাম্প্রের প্রজেক্ট ২০২৫–কে বিপজ্জনক পরিকল্পনা উল্লেখ করেন ভাইস প্রেসিডেন্ট হ্যারিস।
বক্তব্যের শুরুতে কমলা হারিসের তীব্র সমালোচনার জবাব দেন ট্রাম্প। তিনি অন্য দেশের ওপর শুল্ক বসানোর পরিকল্পনার কথা জানান এবং অভিবাসন নিয়ে কথা বলেন।
বিতর্কে এক পর্যায়ে গর্ভপাতের বিষয়টি উঠে আসে। সে সময় বেশ উত্তেজিত হয়ে পড়েন ট্রাম্প। তিনি জানান, নারীদের গর্ভপাতের অধিকার ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করবেন। তবে নারীরা গর্ভপাত চায় না বলে জানান কমলা হ্যারিস।
বিতর্কের এক পর্যায়ে ট্রাম্প ও কমলা একে অপরকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন। বিশ্ব এবং সামরিক নেতারা ট্রাম্পকে সম্মান করেন না বলে মন্তব্য করেন কমলা। অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন হ্যারিসকে সমর্থন করায় বাইডেন তাকে (হ্যারিসকে) ঘৃণা করেন বলে মন্তব্য করে বসেন ট্রাম্প।
বিবিসি বলছে, বিতর্কের বেশিরভাগ সময় ট্রাম্পের দিকে সরাসরি তাকিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন হ্যারিস। কখনও হাসি কিংবা কখনও মাথা নাড়িয়ে মতের অমিল প্রকাশ করেছেন তিনি। কিন্তু অর্থনীতি এবং গর্ভপাতের মতো মূল বিষয়গুলিতে হ্যারিস সরাসরি ক্যামেরার দিকে তাকান, যেনো ভোটারদের কোন বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
অন্যদিকে, ট্রাম্প তার প্রতিক্রিয়া বা প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় হ্যারিসের সাথে চোখাচোখি সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে গেছেন।
এটি ট্রাম্পের দ্বিতীয় বিতর্ক। আর কমলার প্রথম। তবে দুজনের এক সাথে প্রথম। কারণ এর আগে জুনে জো বাইডেনের সঙ্গে ট্রাম্পের প্রথম বিতর্ক হয়।
আগামী ৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ভোট হবে। তাই দুই প্রার্থীর এই বিতর্ককে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
