আধিপত্য বিস্তার ও আন্দোলনে ভূমিকা নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে বরগুনা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের এক গ্রুপের ওপর আরেক গ্রুপের হামলার অভিযোগ উঠেছে। এতে চার শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। বুধবার (১১ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে বরগুনা সদর উপজেলা পরিষদের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- আবু হানিফ, আরিফ, আশিক ও মহিবুল্লাহ। তারা বরগুনার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মো. রেজাউল করিমের গ্রুপের বলে জানা গেছে।
জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের বরগুনায় আগমন ও তাদের কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সভায় আন্দোলন চলাকালীন ও পরবর্তী বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে কথাবার্তার একপর্যায়ে সমন্বয়ক রেজাউল করিম ও সমন্বয়ক মীর নিলয়ের গ্রুপের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এরপর উভয় পক্ষ সভা শেষ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বের হয়। এরপর মীর নিলয় গ্রুপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সামনে সদর রোডে রেজাউল করিম গ্রুপের ওপর হামলা করে। খবর পেয়ে পুলিশ এসে হতাহতের উদ্ধার করেন।
সমন্বয়ক মো. রেজাউল বলেন, কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের আগমন উপলক্ষে আমরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কার্যালয়ে একটি সভায় যোগ দেয়। এ সময় গত ৪ আগস্টের কর্মসূচি বরগুনায় কী কারণে বন্ধ হয়েছিল তা নিয়ে আলোচনা করি। এ আলোচনায় ৪ আগস্টের কর্মসূচি বন্ধ করার পেছনে সমন্বয়ক মীর নিলয়ের নাম উঠে আসে। এতে নিলয় ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। পরে আমরা ইউএনও অফিস থেকে বের হলে সদর রোডে লোকজন নিয়ে নিলয় মারধর করে।
তিনি আরও বলেন, নিলয় ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী, সে সমন্বয়ক ছিলেন না। তার সব কর্মকাণ্ড তাই প্রমাণ করে। ছাত্রলীগের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার অসংখ্য ছবি ফেসবুকে শত শত মানুষ দেখেছে এবং তার সমালোচনা করেছে। তিনি পিঠ বাঁচাতে সমন্বয়ক সেজেছেন। সমন্বয়ক সেজে তিনি ফ্যাসিস্টদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। হামলার ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মীর নিলয় বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে বরগুনায় দুটি গ্রুপ। একটি গ্রুপ পাঁচ তারিখের (৫ আগস্ট) পর থেকেই আমাকে নিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে। গতকাল রাতে আমরা দুই গ্রুপ একত্র হয়েছিলাম। এ সময় রেজাউল আমাদেরকে নানা ধরনের উসকানিমূলক কথা বলে। এতে উভয় পক্ষে তর্কবিতর্ক হয়। এ সময় আমাকে একটি ধাক্কা দিলে উভয় পক্ষে ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে আমি সবাইকে থামিয়ে দেই। এরপর ফেসবুকে দেখতে পাই মারামারি হয়েছে, কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি।
বরগুনা সদর থানার ওসি দেওয়ান জগলুল হাসান বলেন, এখনো কেউ কোনো অভিযোগ জানায়নি। অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে বিএনপি নেতা দুলাল বহিষ্কার
জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, নিহত ২
নিহত ৪ শ্রমিকের বাড়ি নীলফামারী