ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে স্বামী-স্ত্রী ও তাদের চার বছরের মেয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার উত্তর ভাদাইল এলাকার একটি বাসা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আগুন লেগে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রতিবেশীরা জানালেও এ নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে। কারণ তারা বলছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়ার জের ধরে আগুনের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
নিহতরা হলেন, বাড়ির মালিক এম এ হাসান বাচ্চু, তার স্ত্রী স্বপ্না বেগম ও তাদের মেয়ে জান্নাতি। বাচ্চু তার স্ত্রী ও ছোট সন্তানকে নিয়ে চারতলা বাড়ির ওপরের তলার একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন। ফ্ল্যাটের পাশের একটি কক্ষে তার ১৮ বছর বয়সী বড় ছেলে হিমেল থাকে।
এলাকাবাসীরা জানান, দুপুরে বাচ্চুর বড় ছেলে হিমেল চিৎকার করে এলাকাবাসীর সাহায্য চায়। সে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। এ সময় তারা বাচ্চুর দরজা ভেতর থেকে বন্ধ পান। পরে দরজা ভেঙে ভেতরে তিনজনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে বাচ্চুর শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
প্রতিবেশী ফরিদা বেগম বলেন, সকালে বাচ্চুর স্ত্রী স্বপ্না তার সঙ্গে কথা বলে মেয়েকে বাড়ির পাশে স্কুলে নিয়ে যায়। ১০টার দিকে মেয়েকে নিয়ে ফিরে আসে স্বপ্না। এ সময় বাচ্চু, স্বপ্না ও ছোট মেয়ে বাসায় ছিল। পাশের রুমেই তাদের বড় ছেলে ঘুমাচ্ছিল। হঠাৎ তাদের বড় ছেলে রুমের দরজার নিচ দিয়ে ধোঁয়া বের হতে দেখে বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার শুরু করে। স্থানীয় লোকজন দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে বাচ্চু, তার স্ত্রী ও মেয়েকে বিছানার ওপর অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। সে সময় বিছানার জাজিমে আগুন থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘মনে হচ্ছে বাচ্চু ও তার স্ত্রীর মধ্যে কোনো ঝামেলা হয়েছিল। এ কারণে রুমের ভেতর তারা নিজেরাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। বাচ্চুর গালে জখমও দেখেছি।’
