পরিবহনে বৈষম্য দূর করতে পরিবহন পরিচালনা ও সরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের পাশাপাশি যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সমাজের বিশিষ্টজনরা।
আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে যাত্রী অধিকার দিবসের আলোচনাসভায় এই দাবি উঠে আসে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির উদ্যোগে যাত্রী অধিকার দিবস উপলক্ষে ‘বিগত সরকারের প্রণীত সড়ক আইনে যাত্রী স্বার্থ উপেক্ষিত’ শীর্ষক আলোচনাসভার আয়োজন করে।
যাত্রী হয়রানি, ভাড়া নৈরাজ্য, পরিবহনে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, সড়ক দুর্ঘটনা, অন্যায্য ও অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে দাবি আদায়ের প্রতীকী দিবস হিসেবে বাংলাদেশে ৬ষ্ঠ বারের মতো এই দিবসটি পালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ পরিবহনে বিশৃংঙ্খলা ও নৈরাজ্য থামছে না। ২০১৮ সালে নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকার সড়ক পরিবহনের নতুন আইন করে। আইন বাস্তবায়নও হয়। কিন্তু পরিবহনে বিশৃঙ্খলা থেমে নেই। পরিবহনখাতসহ দেশের সকল ক্ষেত্রে বৈষম্য ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার তাজা প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন সেক্টরে দীর্ঘদিন যাবৎ যাত্রীরা ছিল বঞ্চিত।
সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণের টেবিলে তাদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবহনের প্রধানতম স্টেকহোল্ডার দেশের জনগণ তথা যাত্রী সাধারণ। কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সকল ক্ষেত্রে যাত্রী সাধারণের প্রতিনিধিত্ব বাদ দিয়ে সরকারের অনুগত একটি বাস মালিক সমিতি ও একটি পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের নেতৃত্বে পরিবহন সেক্টরে লেজেগোবরে অবস্থার সৃষ্টি হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশে পরিবহনে চাঁদাবাজি, ধান্দাবাজি বন্ধ হলেও পণ্যমূল্য কমছে না, বাস ভাড়া কমছে না। আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট পালিয়েছে, তবে এখন সিন্ডিকেট করছে কারা। এর বিরুদ্ধে আমাদের সোচ্চার হতে হবে। অবশ্যই পণ্যমূল্য ও বাস ভাড়া কমাতে হবে।
নাগরিক সংহতির সাধারণ সম্পাদক শরিফুজ্জামান শরিফ বলেন, সড়কে বিশৃঙ্খলা ও নৈরাজ্য থামাতে হলে প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ববান হওয়া জরুরি। আইনের সুশাসন ও পরিবহনের কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে আসা জরুরি।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার রফিকুল হোসেন কাজল বলেন, ঢাকা শহরে চলাচলকারী প্রতিটি বাস-মোটরযান আইন অনুযায়ী ফিটনেসের অযোগ্য। মোটা অংকের চাঁদা দিয়ে এসব বাস রাস্তায় চলে। এসব বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় হচ্ছে। পরিবহনের কাঠামোগত পরিবর্তন আনা না গেলে চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য বন্ধ হবে না। তাই এইখাত আমূল সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট সাংবাদিক মনজুরুল আলম পান্না, যাত্রী অধিকার আন্দোলনের আহ্বায়ক কেফায়েত শাকিল, গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমম্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা সম্পদ, ড্রাইভার ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বাদল আহমেদ, যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতা তাওহিদুল হক লিটন, এম মনিরুল হক, মাহমুদুল হাসান রাসেল প্রমুখ।
মানুষের বিরুদ্ধে যেতে পারব না: দেব
আ.লীগের আরও এক এমপি গ্রেফতার
বিশ্বে প্রথম ১ বিলিয়ন ফলোয়ার রোনালদোর