গোপালগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম জিলানীর গাড়িবহরে হামলা হয়েছে। এতে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ক্রীড়া সম্পাদক শওকত আলী (দিদার) নিহত হয়েছেন, সাংবাদিকসহ আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫০ জন। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা।
গোপালগঞ্জ সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আনিচুর রহমান জানান, বিএনপির নেতাকর্মীরা গাড়িবহর নিয়ে টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছিলেন। তিনি গণমাধ্যমকে গতকাল রাত ৮টার দিকে বলেন, কেন ঘটনাটি ঘটেছে, এখনো জানা যায়নি। কেউ কেউ বলছেন, ব্যানার টানাটানি নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। ঘটনাস্থলের অদূরে পাথালিয়া বাংলালিংক টাওয়ারের পাশ থেকে শওকত আলী নামে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানী ও তার স্ত্রী গোপালগঞ্জ জেলা মহিলা দলের সভাপতি রওশন আরা (রত্না)। আহতদের মধ্যে ১৬ জনকে গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং তিনজনকে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে গুরুতর আহত এস এম জিলানী, তার স্ত্রী রওশন আরা ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বাদশা মোল্লাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের প্রায় সবাই বিএনপি ও স্বেচ্ছাসেবক দলের ঢাকা এবং গোপালগঞ্জ জেলার নেতাকর্মী।
গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ফারুক আহমেদ বলেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতিসহ ১৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হন। তাদের অধিকাংশের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চিহ্ন রয়েছে।
হামলার সময় সময় টিভির গোপালগঞ্জের ক্যামেরা পারসন মানিক হাওলাদারকে বেধড়ক পেটানো হয়। এ সময় অন্তত ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।
আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করে সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি সিকদার শহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার বেদগ্রাম মোড়ে আমরা শান্তিপূর্ণ পথসভা শেষ করে স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি এস এম জিলানীর মা-বাবার কবর জিয়ারত করতে টুঙ্গিপাড়ায় যাচ্ছিলাম। ঘোনাপাড়া মোড়ে পৌঁছালে গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আমিন মোল্লা, গোবরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জিকরুল ফকির, স্থানীয় আওয়ামী নেতা আলিমুজ্জামান ও হাসান মোল্লার নেতৃত্বে গাড়িবহরে হামলা করা হয়।’
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা আলিমুজ্জামান বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা গাড়িবহর নিয়ে যাওয়ার সময় ঘোনাপাড়া এলাকায় বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন। এতে বাধা দিলে উল্টো তাদের ওপর হামলা করা হয়। হামলায় তিনি নিজেও আহত হয়েছেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শরীফ রফিকুজ্জামান বলেন, বেদগ্রাম মোড়ে বিএনপির একটি পথসভা শেষ করে টুঙ্গিপাড়ার উদ্দেশে রওনা হই। ঘোনাপাড়ায় পৌঁছালে আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনের দুই থেকে তিনশ নেতাকর্মী ধারালো অস্ত্র নিয়ে সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করেন।
