গাজীপুরের শ্রীপুরে এক ভাড়া বাসায় উঠার ৫ দিনের মধ্যেই স্বামী তার স্ত্রীকে খুন করে ঘরের মেঝেতে লাশ ফেলে পালিয়েছে। খবর পেয়ে আজ সোমবার দুপুরে পুলিশ ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে।
রবিবার মধ্যরাতে তেলিহাটি ইউনিয়নের মুলাইদ গ্রামের বাদল মিার বাড়িতে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আজ সোমবার নিহতের ভাই পলাতক বোনের স্বামীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
নিহত ওই নারীর নাম রাহেলা আক্তার (২৫)। পাঁচ দিন আগে ওই বাড়িতে একটি রুম ভাড়া নেন স্বামী-স্ত্রী। নিহত রাহেলা নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার দামুদকুর্ণী গ্রামের রুমাল আলমের মেয়ে। অপরদিকে স্বামী সুজন আহম্মেদ (৩০) তার বিস্তারিত পরিচয় পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি। নিহত রাহেলা আক্তার পাশের ব্লু প্লানেট পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। স্বামীও বেকার বখাটে প্রকৃতির ছিল বলে প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ৫ দিন আগে মুলাইদ গ্রামের বাদল মিয়ার বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী মিলে একটি রুম ভাড়া নেন। সেখানে থেকে স্ত্রী চাকরি করতেন। তবে স্বামী বেকার ছিলেন। তাদের মাঝে ঝগড়া চলছিল। রাহেলা রবিবার রাতে ডিউটি শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভাড়া বাসায় ফিরেন। ওই রাতে আশপাশের লোকজন গভীর রাতেও ঘরের দরজা খোলা দেখে এগিয়ে দেখেন ঘরের মেঝেতে রাহেলার নিথর মরদেহ পড়ে আছে। এ সময় মরদেহের গলায় উড়না পেঁচানো ছিল। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
স্বজনরা জানান, তিন বছর আগে তারা প্রেম করে নিজেদের পছন্দমত বিয়ে করেছিলেন। তবে তাদের মধ্যে তেমন কলহ ছিল না বলে তাদের দাবি। এ ঘটনায় স্বামী সুজনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
শ্রীপুর মডেল থানা এসআই ওয়াহিদুজ্জামান মিয়া জানান, ওই গৃহবধূর ভাই সোমবার সকালে মামলা করেছেন। খবর পেয়ে ঘরের মেঝে পড়ে থাকা মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধে এ হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্ত রিপোর্ট হাতে আসলে বিস্তারিত বলা যাবে।
