বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতা হত্যাকান্ডে সবচেয়ে বেশি স্পর্শকাতর (সেনসিটিভ), নির্মম এবং ঢাকায় সবচেয়ে বড় হত্যাকান্ডগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করে বিচারের জন্য প্রস্তত করা হবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।
আজ মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘এই মুহুর্তে ট্রাইব্যুনাল ফাংশনিংয়ে (বিচারকাজ চলমান নেই অর্থে) নেই। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছি, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই ট্রাইব্যুনাল গঠন হওয়া প্রয়োজন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিয়োগ না হলে যারা আসামি আছে, তাদের গ্রেপ্তারের আদেশ যদি চাই, আদালতের আদেশ ছাড়া গ্রেপ্তার ও তাদের জিজ্ঞাসাবাদ কঠিন।’
সরকারের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যে ট্রাইব্যুনালটা পুনর্গঠন হোক। ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন হলে কাজগুলো খুব দ্রুততর গতিতে এগোবে।’
এক প্রশ্নে অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম বলেন, ‘এখানে (ট্রাইব্যুনালে) নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য বিচারক লাগবে। হাইকোর্ট ডিভিশনে বিচারক আছেন, যারা বিগত সরকারের আমলে নিয়োজিত হয়েছেন। স্বাভাবকিভাবে তাদেরকে যদি ট্রাইব্যুনালে আনা হয়, তাহলে নানা দিক থেকে প্রশ্ন উঠতে পারে। আমরা চাই, এমন সব বিচারক নিয়ে আসা হোক, যাদের ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।’
অপর এক প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আমরা চাইছি যেগুলো সবচাইতে বেশি সেনসেটিভ, সেগুলো আমরা প্রথমে নিয়ে আসবো এবং সেগুলোর তদন্ত আগে শেষ করবো। ঢাকা শহরে সবচেয়ে বড় বড় হত্যাকাণ্ড যেগুলো হয়েছে, যেমন উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, বাড্ডা, মিরপুর ও আশুলিয়াতে হয়েছে, যেগুলো নির্মম হত্যাকাণ্ড এবং জাজ্বল্যমান আছে সেগুলো আলাদা আলাদা করে তদন্ত সম্পন্ন করে দ্রুত এগুলো বিচারের জন্য আগে নিয়ে আসার চেষ্টা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ঢাকার বাইরে রংপুরের আবু সাঈদ হত্যার মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিচারের চেষ্টা করা হবে।
অভিযোগে কারও নাম আসলেই তিনি আসামি হয়ে যাচ্ছেন না— এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তদন্ত সংস্থা বা প্রসিকিউশনের কাছে যে অভিযোগগুলো আসছে, সেগুলো সরাসরি মামলা নয়। সেগুলো তথ্য ও অভিযোগ আকারে আসছে। এগুলো যাচাই—বাছাই করে আমরা যখন ট্রাইব্যুনালের কাছে পিটিশন আকারে উপস্থাপন করব, তখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনের অধীনে মামলা হবে। সুতরাং সেই মামলা হওয়ার আগ পর্যন্ত অভিযোগে কারো নাম আসলে তিনি আসামি হয়ে যাচ্ছেন না। আমরা যাচাই—বাছাই সাপেক্ষে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপন করব।’
