বাংলাদেশের জনগণের জন্য উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা করবে বলে নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথু মিলার। স্থানীয় সময় গত সোমবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এমন কথা বলেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ম্যাথু মিলার বলেন, ‘দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডোনাল্ড লু ঢাকায় রয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং শাসন ও উন্নয়নে সহায়তা করতে পারে তা নিয়ে দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তিনি।’ ডোনাল্ড লুর ঢাকা সফর সম্পর্কে ওই সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশে ডোনাল্ড লুর বৈঠক সম্পর্কে কি আপনার জানা আছে? আরও বিস্তারিত বলতে গেলে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বোঝাপড়া এবং বাংলাদেশ যেদিকে যাচ্ছে, তা যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে মূল্যায়ন করে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি ঘোষণা আছে, তারা বাংলাদেশে সাহায্য করবে, সে বিষয়ে আপনাদের লক্ষ্য কী?
এসব প্রশ্নের জবাবে মিলার বলেন, ‘ইউএসএআইডির প্রতিনিধিদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে ২০০ মিলিয়ন ডলারের একটি উন্নয়ন চুক্তি সই করেছে, যা বাংলাদেশে সুশাসন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং জনগণের জন্য একটি উজ্জ্বল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে বৃহত্তর সুযোগ তৈরিতে সহায়তা করবে। ২০২১ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ইউএসএআইডি বাংলাদেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।’
এ ছাড়া ওই সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সম্প্রতি বাংলাদেশের কারাগার থেকে ছাড়া পেয়েছে হিযবুত তাহরীরের মতো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। এটা কি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় মার্কিন প্রচেষ্টায় ব্যাঘাত ঘটাতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান মিলার।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবিষয়ক সহকারী আন্ডার সেক্রেটারি ব্রেন্ট নেইম্যানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল গত শনিবার ঢাকায় আসে। সেদিন বিকেলে দুদিনের সফরে ঢাকায় আসেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি ডোনাল্ড লু। বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে তিনি ইন্ডিগো এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দিল্লি থেকে ঢাকায় পৌঁছান। ডোনাল্ড লুকে অভ্যর্থনা জানান যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবিষয়ক সহকারী সেক্রেটারি ব্রেন্ট নেইম্যান, ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত হেলেন লাফেভ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিফ অব প্রটোকল ও মহাপরিচালক খন্দকার মাসুদুল আলম।
