ফেনীতে শিক্ষকের আঘাতে চোখ হারাল শিক্ষার্থী

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:৩১ এএম

ফেনীর দাগনভুঞায় শিক্ষকের আঘাতে চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্র চোখ হারিয়েছে। তার অন্য চোখেও সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল বুধবার ফেনী শহরের একটি রেস্টুরেন্টে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তি ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীর পরিবার।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম মাহেদুল হাসান (৯)। সে দাগনভুঞা উপজেলার জগতপুর এলাকার রেয়াজুল হকের ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীর মা হাসিনা আক্তার বলেন, গত ১৪ মে ওয়াজেরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাসে যায় মাহেদুল হাসান। অঙ্কে ভুল করার কারণে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাপস মজুমদার মাহেদুলকে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় কঞ্চির একটি অংশ তার ডান চোখে ঢুকে যায়। পরে ছাত্রের আর্তচিৎকারে স্কুলের শিক্ষক-কর্মচারীরা এগিয়ে এসে তাকে দাগনভুঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। একপর্যায়ে চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মাহেদুলকে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কয়েক দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়। এখানে চক্ষু পর্যালোচনা শেষে ডা. নাফিস আহমেদ শাহরিয়ার বলেন, মাহেদুলের একটি চোখ পুরোপুরি অকেজো হয়ে গেছে। অন্য চোখটি বাঁচাতে হলে তাকে দ্রুত অস্ত্রোপচার করতে হবে।

মাহেদুল হাসানের বাবা রেয়াজুল হক বলেন, ‘চিকিৎসা খরচের জন্য দুই দফা সমাঝোতা বৈঠক হলেও প্রয়োজনীয় টাকা দিতে রাজি হননি তাপস মজুমদার। আমি ওই শিক্ষকের শাস্তি চাই।’

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে তাপস মজুমদারকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন করেননি। পরে জানা যায়, তিনি ছুটি নিয়ে বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন।

প্রধান শিক্ষক মো. সালাহউদ্দিন জানান, বিদ্যালয় কমিটির পক্ষ থেকে তিনি সমাঝোতার চেষ্টা করেছেন। তবে এ ঘটনায় ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখনো কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

ফেনী সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমা আক্তার বলেন, ‘এ ঘটনার আমাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল। আমরা ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। তদন্ত প্রতিবেদন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে জমা দিয়েছি।’ ফেনী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত