বাংলাদেশ অধিনায়কের ভরসা ‘বামপন্থা’য়

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:২৬ এএম

চল্লিশ থেকে ষাটের দশকের একটা সময় জুড়ে বামপন্থি রাজনীতির লাল ঢেউ ছড়িয়ে পড়েছিল বিশ্বে। কাস্তে-হাতুড়ির পতাকা হয়ে উঠেছিল বিপ্লবের প্রতীক। বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত নিজে বাম হাতে ব্যাট করেন, সেজন্য তার চিন্তার ধরনও কি ‘বামপন্থি’? টেস্ট দলের প্রথম চারজন ব্যাটসম্যানই বামহাতি, তাদের মধ্যে শান্ত নিজেও আছেন। পাকিস্তান সফরে বাংলাদেশ ইতিহাস গড়ে দুটো টেস্টে জিতলেও শীর্ষ চার ব্যাটসম্যানের অবদান তাতে কমই। নিচের দিকের একাধিক ব্যাটসম্যান আরও ওপরে ব্যাট করার মতো সক্ষমতা রাখলেও শান্ত এখনই তাদের ‘পদোন্নতি’ দেওয়ার পক্ষে নন।

মাহমুদুল হাসান জয়ের চোটে পাকিস্তান সফরে একাদশে ফিরেছিলেন সাদমান ইসলাম। বছর দু-এক পর টেস্ট একাদশে সাদমানের ফেরায় বাংলাদেশের প্রথম চার ব্যাটসম্যানই বামহাতি। সূচনায় সাদমানের জাকির হাসান, ওয়ানডাউনে শান্ত নিজে এবং চারে মুমিনুল হক। পাঁচে মুশফিকুর রহিম ডানহাতি ব্যাটসম্যান, এরপর ছয়ে সাকিব আল হাসান বামহাতি। ফলে একটা লম্বা সময় জুড়েই দেখা গেছে দুই প্রান্তেই দুজন বামহাতি ব্যাটসম্যান ব্যাট করছেন, এতে করে প্রতিপক্ষ অধিনায়ককে সাজানো ফিল্ডিং খুব বেশি রদবদল করতে হয় না। স্লিপে দাঁড়ানো ফিল্ডারদেরও খুব বেশি নড়াচড়া করতে হয় না। বোলাররা একটানা একই লাইনে বল করার সুযোগ পান।

ব্যাপারটা সাদা চোখে খুবই সামান্য ব্যাপার, তবে টেস্ট যেহেতু শুধু শারীরিক এবং মানসিক সামর্থ্যরে চরম পরীক্ষা নেয়, এই সংস্করণে ছোট বিষয়গুলোই গড়ে দেয় ব্যবধান। ফিল্ডারদের বাড়তি নড়াচড়া মানেই বাড়তি পরিশ্রম, বিশেষ করে চেন্নাইয়ের এই চামড়া পোড়ানো গরমে প্রতিটা ঘামের বিন্দুই মূল্যবান। ভিডিও অ্যানালিস্ট যখন ক্রমেই দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে উঠছেন এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব রাখছেন, সেই সময়ে এসে চেনা ছকের বাইরে প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়াটাই ম্যাচ জয়ের ক্ষেত্রে রাখে বড় ভূমিক। যে সুবিধাটা বাংলাদেশ পেয়েছে পাকিস্তানে। তবে ভারত নিজের মাঠে এত বড় ভুল যে করবে না, সেটাই প্রত্যাশিত।

ফিরে আসার ইনিংসে ৯৩ রান করার পর সাদমানের ব্যাটে বাকি ৩ ইনিংসে খুব একটা সাফল্য নেই। ২০১৯ সালের ভারত সফরেও সাদমান ২ টেস্টে সাদমানের রান ছিল যথাক্রমে ৬, ৬, ২৯ ও ০। টেস্ট অভিষেকে ভারতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা জাকির হাসানও রানে নেই। রাওয়ালপিন্ডিতে সবশেষ ইনিংসে ৪০ রানের আগে তিন ইনিংসে জাকির করেছেন ১২, ১৫* এবং ১। এই দুজনের কারও পরিবর্তে জয় একাদশে ফিরলে ডানহাতি-বামহাতির খানিকটা সমন্বয় হয় বটে।

তবে সংবাদ সম্মেলনে শান্তর কথা থেকে আন্দাজ করা যায় যে তেমনটা চেন্নাইতে অন্তত হচ্ছে না, ‘জয়ের একটু চোট সমস্যা ছিল, তাই গত মাসে সে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে ছিল না। তবে তার আগে কিন্তু সে ভালো করছিল। আমরা জানি সে কতটা সামর্থ্য রাখে। সে দক্ষিণ আফ্রিকায় দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করেছিল। সবশেষ হাইপারফরম্যান্স দলের হয়ে সফরেও সে ভালো করেছে। আমাদের তিন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যানই প্রস্তুত আছে, যে দুজন খেলবে আমি আশা করি তারা দলের জন্য ভালো কিছু করবে।’

একাদশে পরিবর্তন বা ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন এনে শীর্ষ চারে বামপন্থি ঢেউ থামানোর ব্যাপারে তাই শান্ত খুব একটা আগ্রহী নন। ম্যাচের আগের দিনের প্রথাগত সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেই বলেছেন, ‘(পরিবর্তন বা অদল-বদল) না, আমরা তো একটা ভালো সিরিজ শেষ করে এলাম। আমাদের যেটা সেটআপ আছে, খুব ভালো অবস্থানে আছে। টপ-অর্ডাররা রান করেনি... সাদমান একটা ভালো ইনিংস খেলেছে। জাকিরের একটা ছোট ভালো ইনিংস ছিল। তবে যে যেই জায়গায় ব্যাটিং করছে... মুশফিক ভাই অনেক দিন ধরে ওই জায়গায় ভালো করছে। লিটন, মিরাজও। খুব বেশি এটা নিয়ে পরিবর্তন করার প্রয়োজন আছে আমার মনে হয় না। কারণ ওপরের চার ব্যাটসম্যান ওখানে ভালো খেলার ব্যাপারে সামর্থ্যবান।’

শীর্ষ চারে অবশ্য শান্ত নিজেও আছেন। প্রায় ১০ মাস হতে চলল, শান্তর ব্যাটে কোনো হাফ সেঞ্চুরিও নেই। পাকিস্তান সফরে ৩ ইনিংসে মোট রান ৫৮। অথচ ব্যাট করেন দলের সেরা ব্যাটসম্যানের জায়গায়, তিন নম্বরে। বামপন্থা টিকিয়ে রাখতে শান্তর নিজেরই ব্যাট হাতে ভালো একটা ইনিংস খেলা প্রয়োজন, না হলে একাদশে জায়গা নিয়েই যে প্রশ্ন উঠতে শুরু করবে। সেদিন হার্ষা ভোগলে বলেছেন, বাংলাদেশের বেশিরভাগ ব্যাটসম্যান তাদের সামর্থ্যরে চেয়ে একধাপ নিচে ব্যাট করছেন। সেটা কিন্তু শান্তর জন্যই!

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত