চট্টগ্রাম কাস্টমস নিলাম

মার্সিডিজ নয়, ল্যান্ড ক্রুজারেই আগ্রহ বেশি ক্রেতাদের

  • ১৬ কোটি ১০ লাখ টাকার মার্সিডিজ পেতে ৪ আবেদন, সর্বোচ্চ দর ৪ কোটি ১ লাখ
  • ৫ কোটি ১৭ লাখের ল্যান্ড ক্রুজার পেতে ১২ আবেদন, সর্বোচ্চ দর ২ কোটি ১৩ লাখ
আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৪:৪৩ পিএম

আধুনিক বিলাসবহুল গাড়ি মার্সিডিজ কিনতে আগ্রহী নয় ব্যবসায়ীরা। তুলনামূলকভাবে কম দামের ল্যান্ড ক্রুজারেই আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের অনলাইন নিলামে ২০২২ মডেলের ১৬ কোটি ১০ লাখ টাকার ল্যান্ড ক্রুজারটি কিনতে মাত্র চারজন দরপত্র জমা দিয়েছে। অপরদিকে ৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার ল্যান্ড ক্রুজারটি কিনতে দরপত্র জমা দিয়েছে ১২ জন ব্যবসায়ী। এসব দরপত্রের মধ্যে সর্বোচ্চ দর পাওয়া গেছে ২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। 

বেশি দামের চেয়ে কম দামের গাড়িতে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি। বেশি দামের গাড়ি কিনতে এখন কেউ এগিয়ে আসবে না উল্লেখ করে নিলামে অংশ নেয়া বিডারদের সংগঠনের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ ইব্রাহিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশের এই পরিস্থিতিতে কেউ এতো দামী গাড়ি এখন কিনতে আসবে না। আর এ জন্যই মার্সিডিজ বেঞ্জ কিনতে কম ব্যবসায়ী দরপত্র জমা দিয়েছে।’

২০২২ মডেলের ১৬ কোটি ১০ লাখ টাকার মার্সিডিজ বেঞ্জ নিলামে বিক্রির জন্য তোলা হলে গাড়িটির নিলাম মূল্য উঠেছে ৪ কোটি ১ লাখ টাকা। নিলাম আইন অনুযায়ী ভিত্তি মূল্যের ৬০ শতাংশ দাম পাওয়া না গেলে তা বিক্রি করা হয় না। তাই এই গাড়িটি বিক্রি হচ্ছে না বলেই মনে করছেন নিলামে অংশ নেওয়া ব্যবসায়ীরা। গতকাল বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টা পর্যন্ত ছিল নিলামে দর জমা দেওয়ার সর্বশেষ সময়। গাড়ি ছাড়াও আরো ৪৫টি আইটেমের নিলাম সম্পন্ন হয়েছে একই সাথে।

নিলামে মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়িটি কেনার জন্য অনলাইনে দরপত্র জমা পড়েছে চারটি। এই চারটির মধ্যে সর্বোচ্চ দরদাতা ছিল যমুনা শিপ ব্রেকার্স এবং সর্বনিম্ন দরদাতা ছিল মাসুম এন্টারপ্রাইজ। ১৬ কোটি ১০ লাখ টাকা ভিত্তিমূল্যের সর্বনিম্ন দর উঠেছে ৪০ লাখ ৩০ হাজার টাকা। বাকি দুটি দরের একটি ছিল ২ কোটি এবং অপরটি এক কোটি ৫০ হাজার টাকা।

মার্সিডিঞ্জ বেজ গাড়িটির জন্য মাত্র চারটি দরপত্র জমা পড়লেও কুমিল্লা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী আশরাফের নামে আনা ল্যান্ড ক্রুজারটি নিতে ১২টি দরপত্র জমা পড়েছে। ৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার এই গাড়িটির সর্বোচ্চ দর উঠেছে ২ কোটি ১৩ লাখ টাকা। ময়মনসিংহের ভালুকার হ্যারি ফ্যাশন লিমিটেড সর্বোচ্চ দর হাকিয়েছে। এছাড়া সর্বনিম্ন দর জমা পড়েছে ৭৫ লাখ টাকা। এসএ ট্রেডিং নামের একটি প্রতিষ্ঠান সর্বনিম্ন এই দর জমা দিয়েছেন।

নিলামেও মার্সিডিজ বিক্রি হবে না উল্লেখ করে কাস্টমস থেকে নিলামে পণ্য কেনার ব্যবসায়ীদের সংগঠন (বিডার) সাধারণ সম্পাদক ইয়াকুব চৌধুরী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৬ কোটি ১০ লাখ টাকার গাড়িটির ৬০ শতাংশের চেয়ে কম দর উঠেছে নিলামে। স্বাভাবিকভাবেই নতুন এই গাড়িটি প্রথম নিলামে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বরাদ্দ না দেয়ার সম্ভাবনাই বেশি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় দফা নিলাম পর্যন্ত হয়তো কাস্টমস অপেক্ষা করবে।’

এবিষয়ে কাস্টমস নিলাম শাখার উপ-কমিশনার সেলিম রেজা বলেন, ‘নিলাম আইন অনুযায়ী নিলাম কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে। তাই এখন যে দর পাওয়া গেছে সেই দরের আলোকে নিলাম কমিটি মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেবে। তবে ভিত্তি মূল্যের ৬০ শতাংশ দর (৯ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার টাকা) না পেলে প্রথম নিলামে অনেক ক্ষেত্রে বিক্রিতে বাধ্যবাধকতা নেই।’

কিন্তু এমপি কোটা সুবিধায় আনা ২০২১ মডেলের ল্যান্ড ক্রুজার গাড়িটি কুমিল্লা-৭ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আলী আশরাফের নামে আনা হয়েছিল। আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আলী আশরাফ ২০২১ সালের ৩০ জুলাই মারা গিয়েছিল। কাস্টমস নথিতে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এই গাড়িটি নিলাম যোগ্য হয় ১ জুলাই ২০২২ তারিখে। এ নিয়ে দ্বিতীয় বার এই গাড়িটি নিলামে তোলা হয়। ৫ কোটি ১৭ লাখ টাকার এই গাড়িটি পেতে ১২ জন দর জমা দেয়। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ দাম হাঁকিয়েছেন ময়মনসিংহের হ্যারি ফ্যাশন লিমিটেড, ২ কোটি ১৩ লাখ। কিন্তু নিলাম আইন অনুযায়ী ৬০ শতাংশ দর হয় ৩ কোটি ১০ লাখ ২০ হাজার টাকা। ৬০ শতাংশের কম দর পাওয়া যাওয়ায় এই গাড়িটি সর্বোচ্চ দরদাতাকে দেয়া হবে কিনা জানতে চাইলে বিডারদের সহ-সভাপতি মোহাম্ম ইব্রাহিম বলেন, ‘যেহেতু এটি দ্বিতীয় দফায় নিলাম। তাই ৬০ শতাংশের কম হলেও গাড়িটি বরাদ্দ দেয়া যেতে পারে। তবে তা চূড়ান্ত করবে নিলাম কমিটি।’

কাস্টমস এর ঘোষণা অনুযায়ী গতকাল ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিডাররা অনলাইনে দরা জমা দিয়েছে। তবে অনলাইনের দর জমা দেওয়ার পাশাপাশি একই সময়ের মধ্যে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের নিলাম হাউজে পে অর্ডার (যে দর ডাকা হয়েছে সেই দরের) নির্ধারিত বক্সে জমা দিতে হবে। আর সেই বক্সটি খুলে থাকেন নিলাম কমিটি। গতকাল বুধবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকাল ৫টায় এই বক্স সিলগালা করলেও সাড়ে ৫টার দিকে দরপত্র জমা দেয়া ব্যবসায়ীদের সামনে বক্স খুলেন নিলাম কমিটি। নিলাম শাখার উপ-কমিশনার সেলিম রেজার নেতৃত্বে বক্স খুলে দেখেন সেখানে ৪৩টি দরপত্র পান। এর মধ্যে মার্সিডিঞ্জ গাড়ির জন্য ৪টি, ল্যান্ড ক্রুজারের জন্য ১২টি এবং ফেব্রিকসসহ অন্যান্য আইটেমের জন্য ২৫টি দরপত্র জমা পড়ে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম কাস্টমস প্রায়ই বিভিন্ন পণ্যের নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন করে। বন্দরের ইয়ার্ডে ৩৯৯টি গাড়ি নিলাম যোগ্য থাকলেও এবারের নিলামে উঠছে মাত্র দুটি গাড়ি। আর পণ্যের আইটের উঠছে ৪৪টি। এছাড়া বন্দরের অভ্যন্তরে ৪৬ কনটেইনার নিলাম যোগ্য পণ্য রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত