প্রচারে হত্যাচেষ্টা ভোটে বাঁচাবে ট্রাম্পকে!

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০১:০২ এএম

আগামী ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন। নির্বাচন সামনে রেখে জোরেশোরে প্রচার চালাচ্ছেন ট্রাম্প। এর মধ্যে গত রবিবার অপ্রত্যাশিত ঘটনার মুখে পড়েন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই) বলেছে, ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টা হিসেবে এ ঘটনার তদন্ত করছে তারা। গত জুলাই মাসে পেনসিলভানিয়ায় একটি নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় বন্দুকধারীর হামলার শিকার হন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওই হামলায় আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান তিনি। এর দুই মাস পর আবারও তাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে এফবিআই।

হত্যাচেষ্টা প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইকে কী বদলে দেয় এমন প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভোটাররা। সেই বিষয়টি নিয়েই বিশেষ প্রতিবেদন করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। বিশ্লেষকদের বরাতে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব হামলার ঘটনা দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোয় ট্রাম্পের পক্ষে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এসব রাজ্যের প্রধান প্রধান এলাকায় মাত্র কয়েক হাজার ভোট নির্বাচনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

আলজাজিরা বলছে, গত রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের গলফ মাঠের কাছে গুলির ঘটনা ঘটে। সেখানে ঝোপের কাছে ওত পেতেছিল আততায়ী। পরদিনই এ বিষয়ে মুখ খোলেন ট্রাম্প। জুলাই মাসে বুলেটের আঘাত থেকে প্রাণে বেঁচে গেলেও ট্রাম্পের মনোবল ছিল দৃঢ়। সেদিন রক্তাক্ত অবস্থায় সমাবেশের মঞ্চ থেকে নামতে নামতে মুষ্টি উঁচু করে জনতার উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘লড়াই, লড়াই, লড়াই।’ সর্বশেষ হামলার পর ট্রাম্পের দেওয়া বিবৃতি সেই মনোবলেরই পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েছে। পর পর দুটি হামলার জন্য প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিসকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘ডেমোক্র্যাটদের বাকপটুতা ও মিথ্যাচারের ফলে (তার ওপর) গুলি চালানো হচ্ছে।’

ট্রাম্পের এমন প্রতিক্রিয়া নতুন কিছু নয় বলে মনে করছেন রিপাবলিকান কৌশলবিদ জেমস ডেভিস। তিনি বলেন, ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচার শিবির জুলাইয়ে ঘটা হামলার কথা ভোটারদের মনে করিয়ে দিতে চায়। তবে এসব হামলার ঘটনা দোদুল্যমান অঙ্গরাজ্যগুলোয় ট্রাম্পের পক্ষে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডেভিসের মতে, জুলাই মাসে ঘটা হামলায় মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছিল। তবে গত রবিবারের ঘটনায় ততটা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এর অর্থ হলো নির্বাচনের মাঠে সহিংসতার ঘটনা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে গেছে। এখন ভোটারদের বড় একটি অংশ তাদের প্রার্থীর জন্য কাজ করতেই বেশি ব্যস্ত। রিপাবলিকান দলের এই বিশ্লেষক বলেন, দ্বিতীয় দফার হামলার পর আমি কিছু মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি। মানুষ এমন কিছু ঘটতে পারে বলেই ধরেই নিয়েছিলেন, যা খুবই ভয়ংকর। সর্বশেষ হামলার ঘটনা মানুষের মনে নাড়া দেয়নি। তবে দোদুল্যমান ভোটাররা কিন্তু কিছুটা হলেও সহানুভূতিশীল হতে পারেন ট্রাম্পের ওপর। কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলছেন, গত জুনে মুখোমুখি বিতর্কে তৎকালীন ডেমোক্রেটিক দলের প্রার্থী জো বাইডেনকে হারিয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে অনেকটা এগিয়ে যান ট্রাম্প। জুলাই মাসে হামলার পর তার জয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়। কিন্তু ওই হামলার মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ান বাইডেন। ডেমোক্র্যাটরা প্রার্থী হিসেবে নতুন প্রার্থী হিসেবে সামনে নিয়ে আসেন কমলা হ্যারিসকে। কিছুদিনের ব্যবধানে ব্যাপক সমর্থন আদায় করে নেন কমলা। আর এতেই ট্রাম্পের একক জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়ে। তবে দ্বিতীয় দফার হামলার পর ট্রাম্প শিবির এই বিষয়টিকে সামনে আনার চেষ্টা করছে। অবশ্য রাজনৈতিক কৌশলবিদ রিনা শাহের ধারণা, এবার মানুষ মনে খুব বেশি সহানুভূতি তৈরি হবে না। কারণ, ভোটাররা যার ওপর বিশ্বাস রাখেন, তাকেই সমর্থন দেবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত