ঢাবির নারী শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের শেষ কবে

আপডেট : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:২১ এএম

জুলাই মাসব্যাপী বাংলাদেশের হাজারো ছাত্র-জনতার প্রাণদান ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গত ৫ আগস্ট পতন হয়েছে স্বৈরশাসকের। বর্তমানে নতুন এই স্বাধীন বাংলাদেশ দুর্নীতি, বিশৃঙ্খলাসহ নানান সমস্যায় জর্জরিত। তবে আশার কথা হলো, এ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়সহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। তবে যেসব বিশ্ববিদ্যালয় এখনো সম্পূর্ণভাবে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি তাদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যতম। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগেই এখনো ক্লাস পরীক্ষা চালু হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন নারী শিক্ষার্থী হিসেবে আমি মনে করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম যত দ্রুত সম্ভব চালু করা যতটা জরুরি, ঠিক একই সমান জরুরি শিক্ষার্থীদের আবাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। বরং ব্যক্তিগতভাবে আমি দ্বিতীয়টিকেই অগ্রাধিকার দেব। ঢাকা শহরে একজন মেয়ের যথাযথ নিরাপত্তাসহ থাকার জায়গা খুঁজে পাওয়া কতটা কঠিন তা ভুক্তভোগী মাত্রই জানেন।

একজন শিক্ষার্থী গ্রাম কিংবা মফস্বল শহর থেকে ঢাকায় আসেন উচ্চশিক্ষা লাভের উদ্দেশ্যে। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যেহেতু শতভাগ আবাসিক নয়, তাই শিক্ষার্থীকে হলে সিট না পেলে থাকতে হয় ক্যাম্পাসের বাইরে ভাড়া বাসায়, যেখানে খরচ যেমন বেশি, একই সঙ্গে খাদ্য, যাতায়াত, নিরাপত্তা প্রায় কোনো কিছুরই নিশ্চয়তা নেই। অথচ হলে বৈধ সিট পাওয়া শিক্ষার্থীকে এসব সমস্যায় পড়তে হয় না।

অতি দ্রুত এই সমস্যা দূর করা প্রয়োজন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটা বিশাল অংশ নারী হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত হল মাত্র পাঁচটি এবং এদের মধ্যে দুটি হলই ক্যাম্পাসের বাইরে। অথচ ক্যাম্পাসের ভেতরেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের জন্য রয়েছে সুউচ্চ বিশাল ভবন। সম্প্রতি মেয়েদের দুটি নতুন হল নির্মাণের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অবশ্যই প্রশংসনীয়, কিন্তু এর বাস্তবায়ন হতে তো অন্তত দুই থেকে তিন বছর লাগবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাবির নারী শিক্ষার্থীদের আবাসনের একটি দ্রুত ও কার্যকর সমাধান প্রয়োজন।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ঢাবির নারী শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেকেই সে সময় ছাত্রলীগের নেত্রীদের অধীনে ‘পলিটিক্যালি’ হলে থেকেও নেত্রীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে, নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। অথচ এখন হলগুলোতে তাদেরই থাকার অনুমতি নেই, কেননা তারা বৈধ সিট পাননি। এই অবস্থায়, এতজন নারী শিক্ষার্থীর আবাসনকে অনিশ্চিত অবস্থায় রেখে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম চালু করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা ভেবে দেখা উচিত।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন সফল হয়েছে; পতন হয়েছে স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকারের। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি এই বৈষম্য এখনো দূর হয়নি। এখনো ছাত্রীদের একটা বড় অংশকে থাকতে হয় ক্যাম্পাসের বাইরে। প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তা করতে হয় নিজের নিরাপত্তা নিয়ে, পোহাতে হয় যাতায়াতের ভোগান্তি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব বৈষম্য দূর করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে শতভাগ আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করা নিশ্চয়ই সম্ভব, কিন্তু তা সময়সাপেক্ষ। কিন্তু বর্তমানের অনাবাসিক নারী শিক্ষার্থীদের এই অনিশ্চিত অবস্থা দূর করার জন্য যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। হলগুলোতে গণরুমে বরাদ্দ দিয়ে হলেও প্রতিটি ছাত্রীর নামে অন্তত একটি বৈধ সিট বরাদ্দ করা অতীব প্রয়োজন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া, যাতে নারী শিক্ষার্থীদের প্রতি এই বৈষম্য নিরসন হয়।

লেখক : শিক্ষার্থী, বাংলা বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত