এশিয়ার উন্মুক্ত জলসীমায় নিরাপত্তা জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার জোট-কোয়াড। গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ডেলওয়ারে জোটটির শীর্ষ নেতাদের সম্মেলনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সম্মেলন শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে কোয়াড নেতারা বলেন, ‘পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সম্মেলন শেষে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে কোয়াড নেতারা বলেন, ‘পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরের পরিস্থিতি নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ দীর্ঘদিন ধরেই দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগরের নিজেদের শক্তি বৃদ্ধির চেষ্টা করছে বেইজিং। তবে কোনো দেশের নাম উদ্ধৃত না করেই ‘দক্ষিণ চীন সাগরে বল ও ভীতি প্রদর্শনমূলক কার্যকলাপের’ বিরুদ্ধে নিন্দা জানান কোয়াড নেতারা।
সম্মেলনে অংশ নেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানেজ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এ সময় চার সদস্যের এই সংগঠন টিকিয়ে রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন বাইডেন। সম্মেলনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে যৌথ কোস্ট গার্ড কার্যক্রম পরিচালনার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পারস্পরিক সামরিক সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়েও সদস্য রাষ্ট্রগুলো পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। সেই সঙ্গে সমুদ্রসীমার আঞ্চলিক সতর্কতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে ইন্দো-প্যাসিফিক অংশীদারত্বের আওতা বৃদ্ধির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন কোয়াড নেতারা। তবে কোস্ট গার্ড মহড়া বা অন্যান্য কার্যক্রমের বিস্তারিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
এ ছাড়া নিরাপত্তাবিষয়ক সূক্ষ্ম প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়েও আলোচনা করেছেন জোটের নেতারা। চীনের সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপপুঞ্জ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় উন্মুক্ত বেতার যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনাও রয়েছে জোটটির। বিশ্লেষকদের অভিমত, সমুদ্র নিরাপত্তা-সংক্রান্ত নতুন এই পদক্ষেপ বেইজিংয়ের প্রতি সতর্কবার্তা। নিরাপত্তা ইস্যুতে অধিকতর মনোযোগ চীনকে নিয়ে কোয়াডের উদ্বেগ ক্রমেই ঘনীভূত হওয়ার প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ ও পূর্ব চীন সাগর ছাড়াও সম্মেলনে কোয়াড নেতারা ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা যুদ্ধসহ বৈশ্বিক নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এ সময় উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার নিন্দাও জানান তারা। আগামী বছর ভারতে অনুষ্ঠিত হবে জোটটির পরবর্তী সম্মেলন।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং শুরু থেকেই কোয়াডকে বেইজিংবিরোধী জোট হিসেবে আখ্যায়িত করে আসছেন। কোয়াডের কারণে সংঘাতময় পরিস্থিতির সৃষ্টি
হতে পারে বলেও একাধিকবার হুঁশিয়ার করেছেন তিনি।
