আইচি মেডিকেলের ১৫০ শিক্ষার্থীর মাইগ্রেশন দাবি

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৪:৩৬ এএম

সরকারি অনুমোদন ছাড়া শিক্ষার্থী ভর্তি করিয়ে এখন সেসব শিক্ষার্থীকে অন্য কলেজে মাইগ্রেশনে গড়িমসি করছে আইচি মেডিকেল কলেজ কর্র্তৃপক্ষ। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, গত ছয় বছরেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে পারেনি কলেজটি। অথচ অনুমোদনের তথ্য গোপন করে ভর্তি করা শিক্ষার্থীদের মাইগ্রেশনেও বাধা দিচ্ছে।

গতকাল রবিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এ দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। সম্মেলনে দ্রুত মাইগ্রেশন উদ্যোগে নিতে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষার্থীরা বলেন, ২০১৮-১৯ থেকে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের ১৫০ জনের অধিক শিক্ষার্থীর জীবন এখন অনিশ্চয়তা এবং সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীদের পক্ষে শাফিন শাররাজ বলেন, বেসরকারি আইচি মেডিকেল কলেজ ২০১৩ সালে ঢাকার উত্তরায় প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রথম তিন ব্যাচ ভর্তি করিয়ে এমবিবিএস নীতিমালা অনুযায়ী সাময়িক অনুমোদন পায়। কিন্তু কলেজের মানোন্নয়নে আইন অনুযায়ী শর্ত পূরণ না করায় আইচি মেডিকেল কলেজকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ থেকে এমবিবিএস কোর্সে ভর্তি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে। পরে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ২, ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ৪৯, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষে ৪৯, ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে ৪৯ শিক্ষার্থী ভর্তি করায়। যদিও অটোমেশন পদ্ধতির কারণে দুই ব্যাচ ২০২২-২৩ ও ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করাতে পারেনি।

কলেজ কর্র্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ করে এই শিক্ষার্থী বলেন, ভর্তির সময়ে বিভিন্ন ডকুমেন্টে আমাদের স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ভর্তির কিছুদিন পর জানতে পারি স্বাক্ষর করা বেশিরভাগ কাগজপত্রই ভুয়া ছিল। স্বাক্ষর নিতে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে কলেজ কর্র্তৃপক্ষ। কলেজের অনুমোদনের ব্যাপারে জানার পর ২০২০ সাল থেকেই আমরা অনুমোদন ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কলেজ কর্র্তৃপক্ষকে বারবার তাগাদা দিয়েছি। কিন্তু কর্র্তৃপক্ষ থেকে কোনো সাড়া দেয়নি। অনুমোদনের ব্যাপারে তৎকালীন অধ্যক্ষের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বিভিন্ন হুমকি-ধামকি দিয়ে শিক্ষার্থীদের দমিয়ে রাখতেন। এই শিক্ষার্থী জানান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে মাইগ্রেশনের জন্য তাদের কাছে বিভিন্ন ডকুমেন্ট চাইলে তারা যথাসময়ে তা জমা দিয়েছেন। কিন্তু অতি সম্প্রতি কলেজ কর্র্তৃপক্ষ উদাসীনতা শুরু করেছে। গুটিকয়েক শিক্ষক বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে মাইগ্রেশন নিতে ইচ্ছুক শিক্ষার্থীদের কলেজে রাখার চেষ্টা করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত