আগুনে পোড়া এনেক্স ভবন বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৪:৩৬ এএম

গত ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর বরিশাল সিটি করপোরেশনের এনেক্স ভবনে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করে দুর্বৃত্তরা। আগুনে পুড়ে যাওয়া পাঁচতলা ভবনটির দেয়ালের কাচ, লোহার অ্যাঙ্গেল, জানালার গ্রিলসহ বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ঝুলে আছে। একটু বাতাসেই লোহা ও কাচের ভাঙা অংশ পড়তে থাকে। ভবনের চারপাশে রয়েছে শতাধিক দোকান। এজন্য ভবনের নিচে সবসময় থাকে হাজারো মানুষের আনাগোনা। এ অবস্থায় চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দোকানদার ও নগরবাসী। দ্রুত এ ভবনটি মেরামত না করলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

গত শুক্রবার রাতে সরেজমিন দেখা যায়, ঝড়ো বাতাস বইতে শুরু করলে এনেক্স ভবনের ভাঙা কাচ ও বিভিন্ন পোড়া অংশ নিচে পড়তে থাকে। তখন ভবনের নিচে সারিবদ্ধভাবে বসা ছিল শত শত মানুষ। ওপর থেকে হঠাৎ ভাঙা কাচ পড়তে শুরু করলে মানুষ চারদিকে ছোটাছুটি শুরু করে। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়। একপর্যায় দোকানদাররা মিলে ওই সব মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে অনুরোধ করেন।

এনএক্স ভবন থেকে সামান্য দূরেই রমজানের জুসের দোকান। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আতঙ্ক নিয়ে এখানে ব্যবসা করছি। মুহূর্তে মুহূর্তে এ ভবনটি থেকে কাচ ভেঙে নিচে পড়ে। আর বাতাস থাকলে ঝড়ের মতো কাচ পড়তে শুরু করে। এ ছাড়া দেয়াল, জানালার গ্রিল যেকোনো সময়ে ভেঙে নিচে পড়ে যেতে পারে। এ ভবনের আশপাশে প্রতিদিন হাজারো মানুষের আনাগোনা থাকে। এটি সংস্কার করা হোক। যাতে আমরা নিরাপদে থাকতে পারি।’

ঘুরতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা সাগর দাস মুন্সী বলেন, ‘সন্ধ্যার পর এখানে একটু ঘুরতে আসি। আমার মতো আরও হাজার মানুষ প্রতিদিন এখানে ঘুরতে আসে। পাশাপাশি যাদের আশপাশে কাজ থাকে তারাও এই ভবনের তিন পাশ দিয়ে যাতায়াত করে থাকে। রাতে (গত শুক্রবার) হঠাৎ করে বাতাস শুরু হওয়ার পরে দেখলাম ভবনের ওপর থেকে ভাঙা কাচের খ- পড়তেছিল। তখন আমরা ভবনের নিচেই দাঁড়ানো। ভবনের নিচে প্রায় অর্ধশত মোটরসাইকেল রাখা ছিল। আমরা তখন এদিক-ওদিক ছোটাছুটি শুরু করলাম। এ সময় একজনের কাঁধে কাচের খ- পড়ে কেটেও গেছে। এখন এ ভবনটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন। সেটি না হলে বড় ধরনের বিপদ ঘটবে। আমরা এটি সংস্কার দাবি জানাচ্ছি। আর দ্রুত সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সতর্কবার্তা টানিয়ে দেওয়া উচিত।

এ বিষয়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও বিভাগীয় কমিশনার মো. শওকত আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভবনটি এখন সংস্কার করা সম্ভব না। কারণ কোনো ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলে সিমেন্ট, বালুর টেম্পার নষ্ট হয়ে যায়। এ কারণে যেকোনো সময় ধসে পড়তে পারে। এ ব্যাপারটি নিয়ে কী করা যায় সেটি আমরা ভাবছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত