সাতক্ষীরা

‘কচুরিপানার চাপে’ ভাঙল ৩ ব্রিজ, ভোগান্তিতে ৭ লাখ মানুষ

  • বেত্রবতী নদীতে একই দিনে ভেঙে গেছে তিন সেতু
  • চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাত লাখ মানুষ
  • ক্ষতিগ্রস্ত দুটি কাঠের সাঁকো সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে
আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:১৪ পিএম

সাতক্ষীরার বেত্রবতী নদীতে একই দিনে ভেঙে গেছে তিন সেতু। গত চার দিনেও সেসব সেতু সংস্কার করা সম্ভব না হওয়ায় নদী পারাপারে নিজের ভোগান্তির কথা তুলে ধরছেন কলারোয়া উপজেলার ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাদের দাবি, কচুরিপানার চাপে এই তিন ব্রিজ ভেঙে গেছে।

গত বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) পৃথক সময়ে কলারোয়া উপজেলার পশুর হাট সংলগ্ন বেইলি ব্রিজ, কাঁচা বাজার ও মাছ বাজার সংলগ্ন কাঠ ও বাঁশ দিয়ে নির্মিত সাঁকো ও গোপিনাথপুর তারকনন্দী নামক স্থানের আরেকটি কাঠের বড় সেতু ভাঙার ঘটনা ঘটে।

এতে কলারোয়া উপজেলা সদর ও পৌর সদরের সাথে পৌরসভার ৩টি ওয়ার্ড ও উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬ ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, কলারোয়া উপজেলা পরিষদ, কলারোয়া থানা, স্কুল-কলেজ, কলারোয়া পৌরসভা, অফিসসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে আসতে পারছেন না সাধারণ মানুষ।

একই সাথে কলারোয়ার সাথে যশোরের কেশবপুর, মনিরামপুর ও ঝিকরগাছা উপজেলা, সাতক্ষীরার তালা উপজেলার সাথেও আঞ্চলিক সড়কের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ওই সমস্ত এলাকার ৭ লাখ মানুষ।

কলারোয়া পৌর এলাকার রেজাউল ইসলাম বলেন, নদীজুড়ে সবটাই কচুরিপানায় ভরা। নদী খননের কাজে চলছে গড়িমসি। তার উপর দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ঠিকাদার সময়মতো ব্রিজ নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি। সব মিলিয়ে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে লাখো মানুষকে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নাজমুস সাহাদাত বলেন, গত কয়েক বছর ধরে খনন কাজ চললেও নদী পরিচ্ছন্ন না করায় কচুরিপানার চাপে বর্ষার পানি সরতে পারেনি। এখানে সঠিক জবাবদিহির অভাব রয়েছে। যার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে।

কলারোয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী শহিদুল ইসলাম জানান, বেত্রবতীর ক্ষতিগ্রস্ত দুটি কাঠের সাঁকো সংস্কারের জন্য তারা ব্যবস্থা নিচ্ছেন। এজন্য প্রাক্কলিত মূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে। সবকিছু ঠিকঠাক হলে শিগগিরই তারা সাঁকো দুটি সংস্কারের কাজে হাত দেবেন।

সাতক্ষীরা সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনোয়ার পারভেজ জানান, ভেঙে যাওয়া বেইলি ব্রিজের পাশে আরেকটি লোহার বেইলি ব্রিজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে মাগুরা থেকে সরঞ্জামাদি ট্রাকযোগে এসেছে। আগামী কয়েকদিনের ভেতরে বেইলি ব্রিজের নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত