বেতন বাড়াতে রাজি নন মালিকরা

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৫:২০ এএম

পোশাক শ্রমিকদের ১০ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন পোশাক ব্যবসায়ীরা। মজুরি পুনর্গঠন করে ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা করাসহ ১৮ দাবি জানিয়েছেন তারা। তবে পোশাক কারখানার মালিকরা বলছেন, সর্বশেষ মজুরি বাড়ানো হয়েছে কয়েক মাস হয়েছে, তাতেই অনেকে বেতন দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। সেজন্য আগামী পাঁচ বছরের আগে কোনোভাবেই নতুন মজুরি পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়। গতকাল সোমবার শ্রম মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) বৈঠক শেষে কারখানার মালিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব সিদ্ধান্ত জানান ব্যবসায়ীরা।

একই দিন বিকেলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে আরও ১৬টি দাবির নিষ্পত্তি হয়। শ্রম মন্ত্রণালয়ের সচিব এএইচএম শফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বিজিএমইএ সভাপতি ও বোর্ডের সদস্যরা এবং শ্রমিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে চলমান শ্রমিক অসন্তোষের জেরে গতকাল সোমবারও আশুলিয়া এলাকায় প্রায় ৫০টি তৈরি পোশাক কারখানা উৎপাদন বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন কারখানা মালিকরা।

এর মধ্যে ২৭টি কারখানা বাংলাদেশ শ্রম আইনের ১৩(১) ধারার অধীনে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যা ‘কাজ নেই, বেতন নেই’ নিয়ম মেনে চলছে। এ ছাড়া ১২টি কারখানায় শ্রমিকরা প্রবেশের পরও বন্ধ রাখা হয়।

গতকাল মন্ত্রণালয়ের সভা শেষে বিজিএমইএর মতবিনিময় সভার শুরুতে শ্রমিকদের ১৮ দফা দাবি কারখানা মালিকদের অবহিত করেন বিজিএমইএর সিনিয়র সহসভাপতি আবদুল্লাহিল রাকিব। তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা ১৮ দফা দাবি শ্রম মন্ত্রণালয়ে দিয়েছেন, মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে আমরা মতামত দিয়েছি। কাল কারখানা খুলতে না পারলে সবাই আর্থিক নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে। আমরা সরকারের কাছে কারখানার নিরাপত্তা চেয়েছি, কারখানা চালাতে না পারলে আমরা এক্সিট পলিসি চেয়েছি।’

আবদুল্লাহিল রাকিব আরও বলেন, ‘নো ওয়ার্ক নো পেতে আমরা এখনো অটল। কাজ না করলে আমরা বেতন দেব না। আমাদের জ¦ালানি খরচ রিভিউ করতে হবে, সিকিউরিটি নিশ্চিত করতে হবে। ইডিএফ অব্যাহত রাখতে হবে।’

এ সময় প্যাট্রিয়ট গ্রুপের ইকবাল আহমেদ বলেন, ‘নতুন সরকার কি আবার নতুন মজুরি বোর্ড চাচ্ছে? নতুন মজুরি বোর্ড হলে আমরা কোথা থেকে টাকা দেব। ইলেকট্রিসিটি ও গ্যাস বিল দ্বিগুণ হয়েছে, ব্যাংক সুদ মওকুফ করে না। একটা ফ্যাক্টরি বন্ধ করতে হলেও শ্রম আইন অনুসরণ করতে হয়। আমার একটা কারখানা বন্ধ করতে গিয়ে ১৩ কোটি টাকা দিতে হয়েছে। এখন এ সেক্টরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমরা এ সেক্টর বন্ধ হতে দেব না। তবে নতুন বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হলে আমরা কিছুতেই মানব না।’

এর আগে দুপুরে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এক সভায় ১৮টি দাবি উত্থাপন করে শ্রমিকপক্ষ। এতে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান।

সংকট সমাধানের অংশ হিসেবে, শ্রম মন্ত্রণালয় গতকাল ত্রিপক্ষীয় বৈঠক ডেকেছিল, যেখানে শ্রমিকদের ১৮টি সুনির্দিষ্ট দাবি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং এর মধ্যে ১৬টি দাবি বৈঠকে সমাধান করা হয়েছে।

এসব সিদ্ধান্তের বাইরেও মালিকরা ৩০ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত বকেয়া পরিশোধ করবেন এবং সময়সীমা পূরণ করতে ব্যর্থ হলে মন্ত্রণালয় আইন অনুযায়ী আইনি ব্যবস্থা নেবে।

এ ছাড়া সব কারখানায় উপস্থিতি বোনাস ২২৫ টাকা, টিফিন ভাতা ১০, মাতৃত্বকালীন ছুটি ১১২ দিন থেকে ১২০ দিন বৃদ্ধির বিষয়টি মালিকরা মেনে নিয়েছেন।

শ্রম মন্ত্রণালয় মালিকদের তৈরি করা শ্রমিকদের কালো তালিকা স্বাধীনভাবে তদন্ত করবে। বিজিএমইএ প্রতিনিধিরা এ সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন।

মজুরি বৃদ্ধি এবং বিদ্যমান ৫ শতাংশের পরিবর্তে বার্ষিক ১০ শতাংশ বৃদ্ধির বিষয়ে, শ্রমিক প্রতিনিধিরা বলেছেন, মালিকরা যদি নতুন মজুরি বোর্ডের সামর্থ্য না রাখেন, তবে তারা মহার্ঘ ভাতা দিতে পারেন। এর কারণে হিসেবে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কথা জানিয়েছেন তারা।

বিজিএমইএ সভাপতি খন্দকার রফিকুল ইসলাম অবশ্য বলেছেন, সাধারণ সভায় অনুমোদন না করা পর্যন্ত মজুরি বৃদ্ধি-সংক্রান্ত কোনো দাবি তারা মেনে নিতে পারবেন না।

একই দিন সন্ধ্যায় বিজিএমইএ জরুরি বৈঠক করে দুটি দাবি পেশ করে। সেখানে মালিকরা এসব দাবি মানতে অস্বীকার করেছেন।

গত বছরের ৭ নভেম্বর সরকার আরএমজি শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করে।

সভায় নাসার এমডি ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘মালিকদের কোনো অধিকারের কথা কেউ বলে না। প্রতিবারই নির্বাচনের আগে চাপ দিয়ে মজুরি বাড়ানো হয়। তা ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার খরচ বাংলাদেশে অনেক বেশি, ঘুষ দিতে দিতে আমরা ক্লান্ত বেতন দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।’

১৮ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, মজুরি বোর্ড পুনর্গঠন করে শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। যেসব কারখানায় ২০২৩ সালের ঘোষিত ন্যূনতম মজুরি এখনো বাস্তবায়িত হয়নি, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। শ্রম আইন সংশোধন করতে হবে। কোনো শ্রমিকের চাকরি পাঁচ বছর পূর্ণ হওয়ার পর চাকরি থেকে অব্যাহতি দিলে/চাকরিচ্যুত হলে একটি বেসিকের সমান অর্থ দিতে হবে, এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক শ্রম আইনের ২৭ ধারাসহ অন্য ধারাগুলো সংশোধন করতে হবে। সব ধরনের বকেয়া মজুরি অবিলম্বে পরিশোধ করতে হবে। হাজিরা বোনাস (২২৫ টাকা), টিফিন বিল (৫০ টাকা), নাইট বিল (১০০ টাকা) সব কারখানায় সমান হারে বাড়াতে হবে। সব কারখানায় প্রভিডেন্ড ফান্ড ব্যবস্থা চালু করতে হবে। বেতনের বিপরীতে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ন্যূনতম ১০ শতাংশ নির্ধারণ করতে হবে। শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালু করতে হবে। বিজিএমইএ কর্তৃক নিয়ন্ত্রিত বায়োমেট্রিক ব্ল্যাকলিস্টিং করা যাবে না; বায়োমেট্রিক তালিকা সরকারের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সব ধরনের হয়রানিমূলক এবং রাজনৈতিক মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। ঝুট ব্যবসার আধিপত্য বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, প্রয়োজনে এ বিষয়ে আইন করতে হবে। কলকারখানায় বৈষম্যবিহীন নিয়োগ দিতে হবে। জুলাই বিপ্লবে শহীদ এবং আহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ এবং চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে। রানা প্লাজা এবং তাজরীন ফ্যাশনস দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের কল্যাণে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। সব কারখানায় ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপন করতে হবে। শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ করতে হবে ও নারী শ্রমিকদের মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ ১২০ দিন নির্ধারণ করতে হবে।

সম্প্রতি বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে অস্থিরতা চলছে। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অনুপ্রেরণায় পোশাক খাতের শ্রমিকসহ বিভিন্ন গোষ্ঠী নতুন সরকারের কাছে দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন করছে।

অর্ধশতাধিক কারখানায় তালা : ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় কারখানা চালু ও বকেয়া বেতনের দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন একটি তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। গতকাল সোমবার সকালে আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কের নরসিংহপুর এলাকায় এই কর্মসূচি শুরু করেন জেনারেশন নেক্সট গার্মেন্টসের শ্রমিকরা। এক ঘণ্টা পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এদিকে গত রবিবার আশুলিয়ার বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানায় ন্যূনতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা, হাজিরা, টিফিন, নাইট বিল বৃদ্ধির বাস্তবায়ন ও কারখানা কর্র্তৃপক্ষের কাছ থেকে ঘোষণাসহ নানা দাবিতে শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৩(১) ধারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ৪৩টি কারখানা বন্ধ ঘোষণা করেছে মালিকপক্ষ। এ বিষয়ে নোটিস কারখানার মূল ফটকের সামনে টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আটটি কারখানা সাধারণ ছুটি রয়েছে।

এদিকে গাজীপুরের সদর, কালিয়াকৈর ও টঙ্গীতে তিনটি কারখানায় গতকাল সকালেও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। এ সময় ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক কিছু সময় অবরোধ করে রাখেন তারা। এতে দুটি মহাসড়কের উভয় পাশে যানজটের সৃষ্টি হলে দুর্ভোগে পড়েন পরিবহন শ্রমিক ও যাত্রীরা। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। কারখানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী।

গতকাল আমাদের সাভার প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল সকালে নির্ধারিত সময়ে কারখানাগুলোয় যান শ্রমিকরা। সকাল ১০টার দিকে আশুলিয়ার নরসিংহপুর এলাকায় জেনারেশন নেক্সট গার্মেন্টসের শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। বেলা ১১টার পর সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেন।

জেনারেশন নেক্সট গার্মেন্টসের এক শ্রমিক অভিযোগ করেন, গত দুই মাসের বেতন বকেয়া। ১৫ তারিখে (১৫ সেপ্টেম্বর) বেতন দেওয়ার কথা ছিল; কিন্তু দেয়নি। বাসাভাড়া দিতে পারছি না। কারখানায় আমরা কোনো ভাঙচুর করিনি। অন্য কারখানার লোকজন হামলা করছিলেন। এখন কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখছে। আমরা চাই আমাদের বেতন দিক, কারখানা খুলে দিক।’

গতকাল সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন কারখানায় বন্ধের নোটিস টানানো আছে। নরসিংহপুর এলাকার হা-মীম গ্রুপের কারখানার ফটকে ২২ সেপ্টেম্বর তারিখ উল্লেখ করে টানানো বন্ধের নোটিসে বলা হয়েছে, আশুলিয়া শিল্প অঞ্চলের বর্তমান সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ধারা ১৩(১) অনুসারে সোমবার (আজ) থেকে দ্যাটস স্পোর্টস ওয়্যার লিমিটেড, অ্যাপারেল গ্যালারি, রিফাত গার্মেন্টস, এক্সপ্রেস ওয়াশিং অ্যান্ড ডাইং, আর্টিস্টিক ডিজাইন, নেক্সট কালেকশন লিমিটেড কারখানাগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হলো।

আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর কর্মকর্তারা জানান, তাদের অধীন সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে তৈরি পোশাক, ওষুধ, সিরামিক, প্লাস্টিক, চামড়াজাত পণ্য প্রস্তুতসহ বিভিন্ন ধরনের শিল্প-কারখানা রয়েছে ১ হাজার ৮৬৩টি। এসব কারখানার মধ্যে গতকাল ৪৩টি কারখানা শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৩(১) ধারায় বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া আটটি কারখানায় সাধারণ ছুটি রয়েছে।

আশুলিয়ার শিল্প-পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, ‘আমাদের অধীন সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে ৪৩টি কারখানা শ্রম আইনের ১৩(১) ধারায় বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া আটটি কারখানা সাধারণ ছুটি রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই আশুলিয়ার তৈরি পোশাক কারখানা। সকালে জেনারেশন নেক্সট গার্মেন্টসের শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে তাদের বুঝিয়ে সড়কে থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিছু কারখানার শ্রমিকরা তাদের দাবি বাস্তবায়নের বিষয় নিয়ে কারখানা কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছেন।’

গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরের সদর, কালিয়াকৈর ও টঙ্গীতে তিনটি কারখানায় গতকাল সকালেও বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকরা। এ সময় ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক কিছু সময় অবরোধ করে রাখেন কারখানার শ্রমিকরা। এলাকাবাসী, কারখানার শ্রমিক ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিগত দিনে সরকার সারা দেশে শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করে। কিন্তু কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় কোকোলা ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেড কারখানায় শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি। এ বিষয়ে কারখানা কর্র্তৃপক্ষের সঙ্গে শ্রমিকদের বারবার বৈঠক হলেও বেতন বৃদ্ধি করেনি কারখানা কর্র্তৃপক্ষ। ফলে কয়েক দিন ধরে ওই কারখানার শ্রমিকরা তাদের বেতন বৃদ্ধি ও হাজিরা বোনাস বার্ষিক ছুটিসহ বিভিন্ন দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের আন্দোলনের তোপের মুখে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে কারখানা কর্র্তৃপক্ষ। কিন্তু বন্ধ ঘোষণার পরও গতকাল সকালেও শ্রমিকরা ওই কারখানার সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে কিছু শ্রমিক কারখানা বন্ধ থাকার পরও কারখানার ভেতরে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা ও ভাঙচুর করেন। এ সময় শ্রমিকরা পাশের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ রেখে বিক্ষোভ করেন। ওই মহাসড়কে থাকা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এতে ওই মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনীর সদস্য, শিল্প-পুলিশ ও থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শ্রমিকদের ধাওয়া করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর ওই মহাসড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়। এ সময় ওই কারখানার সামনে থেকে বিশৃঙ্খলার অভিযোগে দেশীয় অস্ত্রসহ শাকিল, নাজমুল, মোবারক, খোকন, উজ্জ্বল ও সোহাগ নামে ছয়জন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী। পরে সেনাবাহিনী গ্রেপ্তারকৃতদের কালিয়াকৈর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। এর আগে গত রবিবারও বিশৃঙ্খলার অভিযোগে ১৮ জন শ্রমিককে গ্রেপ্তারের পর কালিয়াকৈর থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী। এ পর্যন্ত ২৪ জন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে থানা-পুলিশ।

কালিয়াকৈর থানার ওসি রিয়াদ মাহমুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের গাজীপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে একই দিন সকালে গাজীপুর সদর উপজেলার বাঘেরবাজার এলাকায় গোল্ডেন রিফিট গার্মেন্টস লিমিটেডের শ্রমিকরা হাজিরা বোনাস, টিফিন বিল, নাইট বিলসহ ১২টি দাবিতে বিক্ষোভ করেন। কিন্তু কারখানা কর্র্তৃপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না নিলে শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় কারখানা কর্র্তৃপক্ষ তাদের আটটি দাবি মেনে নেয়। কিন্তু বাকি দাবি মেনে না নেওয়ায় কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষোভ অব্যাহত রাখেন। অবশেষে তাদের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে দুপুর ১২টার দিকে শ্রমিকরা মহাসড়ক থেকে সরে যান। পরে ধীরে ধীরে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের বাঘেরবাজার জোনের পরিদর্শক সুমন মিয়া জানান, সকাল থেকে শ্রমিকরা মহাসড়কে আন্দোলন করেন। এতে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে মাওনা পর্যন্ত তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে কারখানা কর্র্তৃপক্ষ ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে মহাসড়ক থেকে তারা চলে গেলে যানচলাচল স্বাভাবিক হয়।

গাজীপুর শিল্প-পুলিশের (জোন-২) পরিদর্শক নিতাই বলেন, কারখানা বন্ধ ঘোষণার পরও কিছু উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিক কারখানার ভেতরে জোর করে প্রবেশ করছিলেন। আটক শ্রমিকদের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শ্রমিকরা কিছু সময় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ সৃষ্টি করেছিলেন। তবে এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত