শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষের জেরে মঙ্গলবারও ৫৫টি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর ১৩ (১) ধারায় ৪৬টি এবং ৯টি কারখানায় সাধারণ ছুটি।
এর বাইরে ডিইপিজেডসহ শিল্পাঞ্চলের অন্যান্য কারখানাগুলোয় স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তবে শিল্পাঞ্চলের কোথাও কোনো সড়ক অবরোধ কিংবা অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যায়নি।
শিল্প পুলিশ জানায়, উৎপাদন বন্ধ থাকা কারখানাগুলো মূলত আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের দুই পাশে অবস্থিত। সকালে অনেক শ্রমিক কাজ করার জন্য এলেও কারখানা বন্ধ পেয়ে তারা বাড়ি ফিরে গেছে।
এছাড়া যেসব কারখানা খোলা তার মধ্যে কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকরা বিভিন্ন দাবিতে কাজ বন্ধ করে বিক্ষোভ করেছে। এদিন ৫৫টি কারখানা বন্ধ থাকলেও এর সবগুলো কারখানায় সমস্যা রয়েছে ব্যাপারটি এমন নয়। মূলত হাতেগোনা কিছু কারখানা থেকে শ্রমিক অসন্তোষের সূত্রপাত হচ্ছে যার প্রভাব পড়ছে আশেপাশের কারখানাগুলোতে।
সরেজমিন শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর সড়কের উভয়পাশে অবস্থিত বেশিরভাগ কারখানার প্রধান ফটকে অনির্দিষ্টকালের বন্ধের নোটিশ দেখা গেছে। এ সময় কারখানাগুলোর সামনে যৌথ বাহিনীর সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা গেছে।
আন্দোলনকারী শ্রমিকেরা বলেন, ঘর ভাড়াসহ সব জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। কিন্তু আমাদের বেতনসহ অন্যান্য সুবিধা বাড়ছে না। তাই আমরা আন্দোলন করছি।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, শ্রম আইনের ১৩(১) ধারায় বন্ধ থাকা কারখানাগুলোর মধ্যে রয়েছে হামীম গ্রুপ, অনন্ত গ্রুপ, ডুকাটি অ্যাপারেলস, নাসা গ্রুপ, নিউএইজ গ্রুপ, ব্যান্ডো ডিজাইন, ইয়াগি বাংলাদেশ লিমিটেড, এনভয় গ্রুপ, ভিনটেজ গার্মেন্টস, জেনারেশন নেক্সট।
এছাড়া স্ব-বেতনে ছুটি আছে বা কাজ বন্ধ আছে কিংবা শ্রমিকরা চলে গেছেন এমন কারখানার মধ্যে রয়েছে সিডকো গ্রুপ, দ্য রোজ ড্রেসেস লিমিটেড, এফএনএফ ট্রেন্ড ফ্যাশন, ট্রাউজার্স লাইন লিমিটেড, ফ্যাশন ফোরাম লিমিটেড।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের আইন বিষয়ক সম্পাদক খাইরুল মামুন মিন্টু বলেন, শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার বিষয়ে স্পষ্টভাবে কোনও নোটিশ বা বক্তব্য দেয়নি মালিকপক্ষ। এছাড়াও শ্রমিকদের সঙ্গে মালিকপক্ষের সমন্বয়হীনতা রয়েছে অনেক কারখানায়। সরকারের উচিত এসব বিষয় খতিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার সারোয়ার আলম বলেন, তৈরি পোশাক শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধি, ইনক্রিমেন্টসহ অন্যান্য দাবিতে আন্দোলন করার কারণে মঙ্গলবার ৪৬টি কারখানা শ্রম আইনের ১৩ (১) ধারায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। এছাড়া আরও ৯টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সোমবার ১৩/১ ধারায় মোট ৪৩টি কারখানা বন্ধ ছিল।
এদিকে শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে বিভিন্ন তৈরি পোশাক কারখানার সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েনসহ শিল্পাঞ্চলে টহল কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।
ফের নীতি সুদহার বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক
বিমানবন্দরে ভিআইপি সার্ভিস পাবেন রেমিটেন্স যোদ্ধারা: আসিফ নজরুল
১৮ মাসের মধ্যে নির্বাচন করতে সরকারকে সহযোগিতার অঙ্গীকার সেনাপ্রধানের