টানা চারদিন ধরে উত্তরাঞ্চলের আট জেলায় চলছে বৃষ্টির দাপট। কখনো মুষলধারে আবার কখনো ঝিরিঝিরি বৃষ্টি ঝরছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ থেকে নিম্ন আয়ের মানুষ। শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালেও থেমে থেমে ভারী থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়।
এদিকে এপার-ওপার বাংলায় অবিরাম বর্ষণে তিস্তাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিস্তা অববাহিকায় জারি করা হয়েছে হলুদ সংকেত। পাশাপাশি দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, টানা কয়েকদিন ধরে আশ্বিনের বৃষ্টিতে আয়-রোজগারে সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টির কারণে কাজে যাওয়া যাচ্ছে না। আরেক দিকে আশ্বিনের এ বৃষ্টিতে শীত পড়তে শুরু করেছে। উত্তরের এ অঞ্চলে অনেকটা আগেই হয় শীতের আগমন। ফলে এবারের বৃষ্টিই শীত বয়ে নিয়ে আসছে বলে জানাচ্ছেন তারা। এতে টানা ১০ দিনের তীব্র গরমের পর চলমান বৃষ্টির কারণে উত্তরাঞ্চলে শীতের অনুভূতি হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা অববাহিকার ডালিয়া পয়েন্টে শুক্রবার ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয় ১৩৯ মিলিমিটার ও কাউনিয়া পয়েন্টে ১২৮ মিলিমিটার। তিস্তা নদী সংযুক্ত উজানে ভারতের গজলডোবা পয়েন্টে ৭৬ দশমিক ৪ মিলিমিটার, দো-মহনী পয়েন্টে ১০৫ দশমিক ৭৯ মিলিমিটার ও মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে ১৪০ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এছাড়া তিস্তা নদীর নীলফামারী এলাকায় ১৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্র জানায়, গত ২৪ ঘন্টায় শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলের রংপুরে ১৩১ মিলিমিটার, দিনাজপুরে ১৯৭, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১৮৩ ও ডিমলায় ১৪১, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১৭৪ ও কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৯৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এর আগের ২৪ ঘণ্টায় রংপুরে ১০৩, দিনাজপুরে ১৫০, নীলফামারীর সৈয়দপুরে ১৫৭ ও ডিমলায় ১০০, পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ১০৩ ও কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
জানা গেছে, ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার দশমিক ৩২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় হলুদ সংকেত জারি করা হয়েছে। অপর দিকে তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৯ দশমিক ৩১ মিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৬টায় এই পয়েন্টে তিস্তার পানি দশমিক ৫৬ সেন্টিমিটার ও বেলা ৩টায় বিপৎসীমার দশমিক ৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
এদিকে প্রতিদিনের বৃষ্টিপাত আর উজানের ঢলে পানি বৃদ্ধির ফলে রংপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার সব নদ-নদীর পানির পাশাপাশি বিলের পানি বৃদ্ধিও অব্যাহত আছে। এতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে। সেইসঙ্গে ফসলি জমিতে পানি উঠায় নষ্ট হচ্ছে আগাম শীতকালীন শাকসবজি ও বীজতলাসহ বিভিন্ন ফসল।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া শাখার উপ-প্রকৌশলী মোহাম্মদ রাশেদীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, অব্যাহত বৃষ্টির কারণে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করেছে। পানির চাপ সামলাতে তিস্তার ৪৪টি জলকপাট খোলা রাখা হয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় আবহাওয়া অফিসের ইনচার্জ আবহাওয়াবিদ মো. মোস্তফিজার রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, শুক্রবারও রংপুর বিভাগের ৮ জেলার অধিকাংশ জায়গায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অব্যাহত ছিল।
শ্রমিক বিক্ষোভে নাটোরে প্রাণ কোম্পানির কারখানা বন্ধ
খুলে দেওয়া হলো তিস্তার ৪৪ জলকপাট
আগামী ৩ দিন মাঝারি ও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস