ফখরুল বললেন

অবিলম্বে তারেক রহমানকে ফেরার ব্যবস্থা করতে হবে

আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৬:৫৪ এএম

সব মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তারেক রহমানকে দেশে আসার ব্যবস্থা করতে হবে উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহারের বিষয়ে ইতি মধ্যে টালবাহানা শুরু হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় গাজীপুরের কাপাসিয়া পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আ. স. ম হান্নান শাহ’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে তারা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। তাই বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের পাশে দাঁড়ানোর এবং তাদের সর্বাত্মক নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি। আওয়ামী লীগের লোকজন দেশের গার্মেন্টস কারখানায় অশান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করে এ শিল্পকে ধ্বংসের ষড়যন্ত্র করছে। গার্মেন্টস কর্মীরা বিষয়টি বুঝতে পেরে এখন স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছে।

তিনি আরও বলেন ‘শেখ হাসিনা পালিয়ে গেলেও এখনো দেশের সংকট কেটে যায়নি। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও তার সরকারের লোকজন সবাই ভালো মানুষ। এ সরকার সংস্কার চায় এবং আমরাও সংস্কারে বিশ্বাসী। তাই বলে সংস্কারের নামে বেশি সময় ক্ষেপণ করা যাবে না। তাছাড়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশকে ফিরিয়ে দিতে দেরি হলে অন্য কোনো ব্যবস্থা যেন ঢুকে না পড়ে সে ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন দিয়ে গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানাই।’ 

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে আমরা স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছি। কিন্তু বিগত ১৫ বছর ধরে আমরা স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ পেতাম না। আওয়ামী লীগ সরকার পুলিশ ও প্রসাসনকে ব্যবহার করে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত রাখতে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। শেখ হাসিনা ও তার দোসররা ভেবেছিল তারা আজীবন ক্ষমতায় থাকবে এবং দেশে-বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থাকে দেশে স্থায়ীভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার সংবিধান সংশোধন করে এ ব্যবস্থাকে বাতিল করে দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংসের ব্যবস্থা করেছিল। তারা বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলা দিয়ে ফাঁসাতে চেয়েছিল। কিন্তু ছাত্র-জনতার সুনামির তা-বে লুটপাট ও চুরির দায় নিয়ে তারা আজ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আ. স. ম হান্নান শাহ ছিলেন একজন সত্যিকারের নির্ভীক সাহসী সৈনিক। তিনি বীরের বেশে দেশের মানুষকে গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আজীবন লড়াই করেছেন। একটি কুচক্রী মহল যখন শহীদ জিয়াকে হত্যা করে লাশ গুম করার ষড়যন্ত্র করছিল তখন তিনি সাহসের সঙ্গে এগিয়ে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে ঢাকায় নিয়ে এসেছিলেন।

স্মরণসভার আগে প্রয়াত হান্নান শাহ্র রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। এর আগে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপজেলার ঘাগটিয়ার গ্রামের পারিবারিক গোরস্থানে হান্নান শাহর কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত